একসময় সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে নেমে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishore)। রাজনৈতিক কৌশলবিদের পরিচয় ছাপিয়ে নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পথে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। বিহারে তাঁর উদ্যোগে শুরু হওয়া জন সুরাজ প্রথমদিকে ব্যাপক সাড়া ফেললেও ভোটের লড়াইয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এরপরই প্রশান্ত বুঝে যান—মাঠে নেমে নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে, পর্দার আড়াল থেকে পথ দেখানোই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
সেই উপলব্ধি থেকেই ফের পুরনো ভূমিকায় ফিরে আসেন তিনি। আর ফিরে এসেই দেখিয়ে দেন কেন তাঁকে দেশের অন্যতম সফল রাজনৈতিক কৌশলবিদ বলা হয়। গত বছর দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা-রাজনীতিক থলপতি বিজয় (Thalapati Vijay) যখন নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন, তখন থেকেই নীরবে তাঁর পাশে দাঁড়ান প্রশান্ত। লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে দল গঠন, সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি, আদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট করা এবং জনসংযোগের কৌশল—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন তিনি।
প্রশান্তের কৌশল ছিল স্পষ্ট—শুধু জনসভায় ভিড় টানলেই হবে না, মানুষের মনে আস্থা গড়তে হবে। রাজনৈতিক দর্শনকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। সংগঠনকে মাটি থেকে শক্ত করতে হবে। বিজয় সেই পথেই এগিয়েছেন। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে (TamilnaduElection2026) শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
আজ তার ফল স্পষ্ট। রাজ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে সবচেয়ে আলোচিত মুখ এখন বিজয়। রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ মনে করছে, আগামী দিনে তামিলনাড়ুর নেতৃত্বের আসনে তাঁর ওঠার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আর এই উত্থানের নেপথ্যে নীরব কারিগর হিসেবে উঠে আসছে একটাই নাম—প্রশান্ত কিশোর।
এক বছর আগেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। মজা করে বলেছিলেন, “এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিহারী মহেন্দ্র সিং ধোনি। বিজয়কে জেতাতে পারলে হয়তো আমিই হব পরের জনপ্রিয় বিহারী।” সময়ের সঙ্গে সেই কথাই যেন বাস্তবের কাছাকাছি পৌঁছেছে। রাজনীতির সরাসরি লড়াইয়ে তিনি সফল না হলেও, কৌশলের দাবার ছকে প্রশান্ত কিশোর আবারও প্রমাণ করলেন—নেতা না হয়েও রাজনীতির সবচেয়ে বড় চালটা তিনিই চালতে পারেন।





