রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশ, হোমগার্ড ও এনভিএফ কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মীদের যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বাজেট ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতীতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, অনেক কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি, বয়সের প্রমাণপত্র বা অন্যান্য তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আপাতত সিভিক ভলান্টিয়ার-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পারিশ্রমিক ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে একটি যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য কর্মীদের চিহ্নিত করা হবে। তিনি জানান, কাউকে সরাসরি ছাঁটাই করা হবে না। কিন্তু কর্মীদের নথি ও যোগ্যতার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এতদিন হোমগার্ড ও এনভিএফ কর্মীরা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাঁদের পারিশ্রমিক দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত ছিল। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে।
পাশাপাশি অবসরের পর তাঁদের জন্য বিশেষ কল্যাণমূলক নীতিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।এদিন বিধানসভায় বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত একাধিক ভাতা ও সাম্মানিক বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অগস্ট মাস থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশ, হোমগার্ড ও এনভিএফ কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক ২ হাজার টাকা করে বাড়বে।
এছাড়া প্রাণী বন্ধু, প্রাণী মিত্র, প্রাণী সেবা মিত্র-সহ পশুসম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই হারে পারিশ্রমিক বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভিলেজ রিসোর্স পার্সন, ভেক্টর কন্ট্রোল টিম এবং ভেক্টর সার্ভেইল্যান্স টিমের কর্মীদের দৈনিক ভাতাও অতিরিক্ত ১০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে।রাজ্যের পরিবহণ নিগমের চুক্তিভিত্তিক কন্ডাক্টরদের মাসিক পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা পেনশন চালুর কথাও বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা এবং আশাকর্মীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের মাসিক সম্মানী ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শিশু পুষ্টি, মাতৃসুরক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে এই ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে একদিকে যেমন বিভিন্ন স্তরের চুক্তিভিত্তিক ও সহায়ক কর্মীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বার্তা দেওয়া হয়েছে, তেমনই নিয়োগ ও কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারির ইঙ্গিতও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।





