দেশজুড়ে ২০২৭ সালের জনগণনার (Census) প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে জনগণনার কাজ। গত ১৮ মে ২০২৬ রাজ্যপালের অনুমোদনের পর রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর এ সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। জনগণনা হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। এবারের জনগণনায় নাগরিকরা স্ব-নথিভুক্তকরণ বা সেলফ এনুমারেশনের সুযোগ পাবেন। ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের নাম ও তথ্য নথিভুক্ত করা যাবে।
এই জনগণনা পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকদের জনগণনা আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করেছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলাশাসক (DM), অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM), মহকুমা শাসক (SDO), বিডিও-সহ একাধিক আধিকারিককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় জনগণনার কাজ পরিচালনা ও তদারকি করবেন।
স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনে আরও আধিকারিক নিয়োগ করার ক্ষমতাও তাঁদের হাতে থাকবে। জনগণনার কাজে বাধা সৃষ্টি করলে বা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করলে জনগণনা আইন, ১৯৪৮ অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর দেশে জনগণনা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে আগেরবার সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এবারই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হতে চলেছে। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের তরফে ১১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।
জনগণনার সময় পরিবারের সদস্যদের তথ্যের পাশাপাশি বাড়ি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে। পরে জনগণনা আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। একবার তথ্য যাচাই হয়ে গেলে আবেদনপত্র লক হয়ে যাবে। এরপর আর কোনও পরিবর্তন করা যাবে না।





