দু’ঘণ্টার ব্যবধানে পাঞ্জাবে পরপর দু’টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যার একটি হয়েছে বিএসএফ ঘাঁটি এবং অন্যটি সেনা ক্যান্টনমেন্টের কাছাকাছি এলাকায়। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে জলন্ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরের সামনে রাখা একটি স্কুটারে বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরই নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে।এই পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক দাবি করলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবত মান। তাঁর দাবি, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে হাত রয়েছে বিজেপির। যদিও সেরাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তার আঙুল পাকিস্তানের দিকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিএসএফের সদর দপ্তরের কাছে রাখা একটি স্কুটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় কীভাবে স্কুটিটি রেখে যাওয়া হল এবং তা কারও নজরে এল না কেন এই বিষয়গুলি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্কুটির ভিতরে কোনও বিস্ফোরক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার ধনপ্রীত কউর রনধওয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি জঙ্গি হামলা বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে খলিস্তান লিবারেশন আর্মি এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাঞ্জাবের ভগবত মানের দাবি, “বিজেপি যেখানেই নির্বাচনে লড়তে যায়, সেখানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে।” তিনি গেরুয়া শিবিরকে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এমন দাবি ভালোভাবে নিচ্ছে না বিজেপি।
এদিকে এই ঘটনার নেপথ্যে আইএসআইয়ের হাত থাকতে পারে বলে মনে করছেন ডিজিপি গৌরব যাদব । তাঁর মতে, দুই ক্ষেত্রেই বিস্ফোরণ আইইডির মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে। যদিও মিথ্যা বয়ান বা আখ্যান তৈরির চেষ্টা করছে আইএসআই। চেষ্টা করা হচ্ছে, পাঞ্জাবের পরিস্থিতি যে অস্থিতিশীল, তা প্রমাণ করার। এবং মুষ্টিমেয় ব্যক্তি পাঞ্জাবে বসে পাকিস্তানের ইশারায় এমনটা করছে বলে তাঁর দাবি।
পঞ্জাবের পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং স্কুটারের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিএসএফের সদর দপ্তরের বাইরে বিস্ফোরণের মাত্র দু’ঘণ্টা পর অমৃতসরে সেনাছাউনির কাছেও আর একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খাসা রোডে অবস্থিত ওই সেনা ঘাঁটির বাইরেই বিস্ফোরণটি হয়, যার ফলে সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, কোনও ধাতব বস্তু ছুড়ে মারা হয়েছিল পাঁচিলের দিকে, এরপরই বিস্ফোরণ ঘটে।





