Header AD
Trending

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির! ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলের নয়- বিবৃতি তৃণমূলের

Jahangir Falta

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের আগে আচমকাই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ! এতদিন যিনি তর্জন-গর্জনে রাজনৈতিক ময়দান কাঁপিয়েছেন, সেই তৃণমূল প্রার্থী‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান হঠাৎই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন। জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্তের পরই বিবৃতি জারি করে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত, দলের সিদ্ধান্ত নয়।

একসময় ডায়মন্ড হারবার এলাকায় জাহাঙ্গিরের প্রভাব ও দাপট নিয়ে নানা আলোচনা চলত। এমনকি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিতে পিছপা হননি তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে সেই জাহাঙ্গিরের গলাতেই শোনা গেল আত্মসমর্পণের সুর।

সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার মানুষের জন্য বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছেন, আমি আর ভোটে লড়ব না।” তাঁর এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।বিরোধীদের দাবি, এতে কার্যত অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত বিবৃতি দেয় ঘাসফুল শিবির।

তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, “ফলতার পুনর্নির্বাচন থেকে জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। দল এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুধু ফলতা আসনেই তৃণমূলের শতাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিনের আলোয় ভয় দেখিয়ে দলের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জোর করে দখল করা হয়েছে। অথচ বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেখেও না দেখার ভান করছে। এইসব চাপের মুখেও তৃণমূল কর্মীরা অটল রয়েছেন। বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিজেপি যে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। তবে, শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” তৃণমূল আরও লিখেছে, “আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলা বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লি দুই জায়গাতেই চলবে।”

উল্লেখ্য, ফলতায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা আগেই পেরিয়ে গিয়েছে। ফলে ইভিএমে এখনও জাহাঙ্গির খানের নাম, প্রতীক ও ছবি থাকবে। তাই এই সিদ্ধান্তের পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখন তো সব ইভিএমে ওঁর নাম, ছবি, প্রতীক সব রয়েছে। সব কমপ্লিট। কমিশনের কাছে অফিসিয়াল কোনও কিছু জানিয়ে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যেও প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেননি তিনি। তাহলে নির্বাচনে জিতলে কি তিনি সার্টিফিকেট নেবেন না? নাকি এখানে অন্য কোনও ছক রয়েছে?”

এদিকে তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এই বিষয়ে বলেন, “জাহাঙ্গির কেন হঠাৎ পিছিয়ে গেলেন, তা দল খতিয়ে দেখবে। নিশ্চয়ই এলাকায় কোনও না কোনও চাপ বা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।”