রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) আবারও আইপিএলের (IPL) সিংহাসনে। ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে (GT) ৫ উইকেটে হারিয়ে পরপর দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতল রজত পাতিদারের দল। জয়ের নায়ক সেই চেনা মুখই—বিরাট কোহলি। অপরাজিত ৭৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন তিনি।
প্রথমে ব্যাট করে গুজরাট টাইটান্স ৮ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে। বেঙ্গালুরুর বোলাররা শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। ভুবনেশ্বর কুমার, জস হ্যাজেলউড এবং তরুণ রশিখ সালাম নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন। গুজরাটের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় দলের রান তোলার গতি কমে যায়।
সুদর্শন ১২ ও গিল ১০ রান করে ফিরে যান। জস বাটলারও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। একমাত্র ওয়াশিংটন সুন্দর লড়াই চালিয়ে অর্ধশতরান করেন। রশিখ সালাম ৩টি এবং ভুবনেশ্বর ও হ্যাজেলউড ২টি করে উইকেট নিয়ে গুজরাটকে বড় স্কোর গড়তে দেননি।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল আরসিবি। বিরাট কোহলি ও ভেঙ্কটেশ আইয়ারের উদ্বোধনী জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকে। ভেঙ্কটেশ মাত্র ১৬ বলে ৩২ রান করে আউট হলেও কোহলি নিজের ছন্দ বজায় রাখেন। পাওয়ারপ্লেতেই দলের স্কোর ৮৬ রান ছুঁয়ে যায়।
মাঝে রশিদ খানের স্পিনে কয়েকটি দ্রুত উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল বেঙ্গালুরু। রজত পাতিদার ও ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল গুজরাট। তবে ক্রিজে কোহলি থাকায় সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি।
অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে তিনি একদিকে স্ট্রাইক ঘুরিয়েছেন, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই বড় শট খেলেছেন। মাত্র ২৫ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। টিম ডেভিডও গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত কোহলিই ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন এবং আরসিবিকে শিরোপা জয় নিশ্চিত করেন।
১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর গতবার প্রথমবার আইপিএল জিতেছিল আরসিবি। এবার সেই সাফল্য ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল তারা। আর এই সাফল্যের কেন্দ্রে আবারও সেই এক নাম—বিরাট কোহলি, যিনি বড় ম্যাচে বারবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে চলেছেন।





