বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দল। দলবিরোধী মন্তব্য এবং প্রকাশ্যে তৃণমূল (TMC) নেতৃত্বের সমালোচনার অভিযোগে পাঁচ মুখপাত্রকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন ঋজু দত্ত (Riju Dutta), কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী (Krishnendu Chowdhury), কোহিনুর মজুমদার (Kohinur Majumdar), পাপিয়া ঘোষ (Papiya Ghosh) এবং কার্তিক ঘোষ (Kartik Ghosh)।
দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে ডেরেক ওব্রায়েন (Derek O’Brien) তাঁদের কাছে নোটিশ পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রশ্ন তোলা হয়েছে—দলের অবস্থানের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার জন্য কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসনে জয় পাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনা। এই পরিস্থিতিতে দলের একাংশ প্রকাশ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) রাজনৈতিক কৌশল ও নেতৃত্ব নিয়ে সরব হন কয়েকজন নেতা ও মুখপাত্র। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনী ব্যর্থতার দায় এড়ানো যায় না।
যদিও দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, নেতৃত্বকে নিশানা করে প্রকাশ্যে সমালোচনা বরদাস্ত করা হবে না। সম্প্রতি কালীঘাটে জয়ী প্রার্থীদের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে অভিষেকের পরিশ্রম ও ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উপস্থিত নেতাদের তাঁকে সম্মান জানাতে বলেন।
এদিকে শোকজ পাওয়া মুখপাত্রদের একাংশ ইতিমধ্যেই জবাব প্রস্তুত করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা দলের ক্ষতি করতে নয়, কর্মী-সমর্থকদের মনের কথাই তুলে ধরেছেন। এমনকি দলের অন্দরের বহু নেতার নীরব সমর্থনও তাঁদের পাশে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরাজয়ের ধাক্কায় তৃণমূলে এখন আত্মসমালোচনার পাশাপাশি শৃঙ্খলা বনাম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—এই দ্বন্দ্বই বড় হয়ে উঠছে।





