আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে (RG Kar Medical College & Hospital) ঘিরে ফের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। এবার হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিআইএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিষয়টি সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত জওয়ানের নাম পারুল আহমেদ। তিনি আর জি কর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগকারী তরুণীর মায়ের চিকিৎসা চলছিল ওই হাসপাতালে। সেই সূত্রেই নিউটাউনের বাসিন্দা তরুণীর সঙ্গে পারুলের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।
তরুণীর অভিযোগ, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে চিনার পার্কের একটি হোটেলে তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। পাশাপাশি, আপত্তিকর ভিডিও তুলে তা প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয়। সেই ভয় দেখিয়েই একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ।
পরবর্তীতে নির্যাতিতা পরিবারের সদস্যদের পুরো ঘটনা জানান। এরপর নারায়ণপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং গত ৯ জুন অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের স্বার্থে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য চিনার পার্কের সংশ্লিষ্ট হোটেল থেকে বিছানার চাদর এবং অভিযুক্তের ইউনিফর্ম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নিজের পোস্টে রাজ্যের বর্তমান সরকারকে এবং প্রতিবাদী শিবিরকে নিশানা করে তিনি লিখেছেন, ‘আর জি করের এই ঘটনাটিও কি ভয়ঙ্কর নয়? অপরাধী নিরাপত্তারক্ষী জওয়ান। রোগীর কন্যাকে ধর্ষণ। প্রতিবাদীরা নীরব কেন?? সাল তারিখ সরকার দেখে প্রতিবাদ ঠিক হয়? আমরা সেদিনও প্রতিবাদ করেছি। অতিরঞ্জিত মিথ্যাচারের নাটক করতে পারিনি। আজও প্রতিবাদ করছি। প্রশ্ন উঠবে না জওয়ানের পেছনে কে কে আছে? চক্র কাজ করছে কি না? ও একা এটা করতে পারে না, আরও অনেকে থাকতে পারে। ফেস বুক বিপ্লবীরাও ঘুমোচ্ছেন। ভালো।’






