Header AD
Trending

প্রায় ১৩ বছর পর জেলমুক্তির পথে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন, সব মামলায় জামিন

Sudipta Sen Bail

প্রায় ১৩ বছর জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তির পথে সারদা চিটফান্ড (Sarada Chitfund Scam) কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন (Sudipta Sen)। বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা শেষ দুটি মামলাতেও জামিন মঞ্জুর করেছে। ফলে তাঁর জেল থেকে মুক্তি পেতে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্সি জেল থেকে ছাড়া পেতে পারেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে সারদা কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর সুদীপ্ত সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর থেকে একাধিক মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলেই ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৩৮০-রও বেশি মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে ৭৬টি মামলা সিবিআই তদন্ত করে। ওই সব মামলায় আগেই তিনি জামিন পেয়েছিলেন।

তবে রাজ্য পুলিশের অধীনে থাকা বহু মামলার মধ্যে বারাসত আদালতে বিচারাধীন দুটি মামলায় জামিন না পাওয়ায় এতদিন জেলবন্দি থাকতে হয় তাঁকে। সম্প্রতি সংশোধনাগার থেকে ‘প্রিজনার্স পিটিশন’ দাখিল করে সুদীপ্ত অভিযোগ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মামলাগুলির শুনানি হচ্ছে না এবং তাঁকে নিয়মিত আদালতে হাজিরও করা হচ্ছে না।

এই আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাই কোর্ট সিবিআইয়ের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে। রিপোর্টে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সংস্থার সমস্ত মামলাতেই সুদীপ্ত সেন শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। এরপর বাকি থাকা রাজ্যের দুটি মামলাতেও বুধবার জামিন মঞ্জুর করে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে আদালত জামিনের সঙ্গে কিছু শর্ত আরোপ করেছে। একইসঙ্গে সারদা ও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলিকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির হিসাবসহ আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, ৩৮৯টি মামলা হয়েছিল সারদার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল সারদাকর্তা গ্রেফতার হন বিধাননগর থানার মামলায়। সিবিআই ৭৬টি মামলা হাতে নেয়। তারা সব মিলিয়ে চারটে মামলা দায়ের করে। বাকিগুলোয় রাজ্য পুলিশ চার্জশিট দেয়। সেই চার মামলায় জামিন পেয়ে যান সুদীপ্ত। বেল বন্ড জমা দেন তিনি। তবে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলার মধ্যে দু’টি আটকে ছিল। বারাসত থানার দু’টি মামলাও ঝুলছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার হাই কোর্টে মামলাটি উঠলে, সবক’টি মামলাতেই জামিন দেওয়া হল সুদীপ্তকে। সারদাকর্তার জামিন প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘কারও জামিন হওয়া বা না-হওয়া আইন-আদালতের বিষয়। জামিন পাওয়া আইনের মধ্যেই পড়ে। সুদীপ্ত সেন জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেছে। সুতরাং এটা নিয়ে আপাতত আলাদা করে কোনও ব্যাখ্যা বা মন্তব্যের কিছু নেই।’’

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে সারদাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে দেবযানীকে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত। ওই বছরই কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই দু’জনে জেলবন্দি। ২০২৩ সালে অবশ্য কয়েক ঘণ্টার প্যারোলে ছাড়া পেয়েছিলেন দেবযানী। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন থানায় প্রতারিতেরা অভিযোগ জানান সারদা অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে। পরে তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআইও মামলা রুজু করে। পাশাপাশি ইডি এবং সেবি-ও সুদীপ্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। সুদীপ্ত সেন বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন। তাঁর মুক্তির খবর রাজ্যে রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে, বিশেষত ভোটের আগে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে জেলমুক্তির দোরগোড়ায় পৌঁছলেন সারদা কর্তা।