অবশেষে সোমবার জমি দুর্নীতি এবং প্রতারণা মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) দপ্তরে হাজিরা দিলেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। গত ফেব্রুয়ারি মাসে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া বোমা-গুলি কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি। এরমধ্যেই জমি দুর্নীতি এবং প্রতারণা মামলায় নাম জড়ায় সোনা পাপ্পুর। সেই মামলাতেই একাধিকবার তাঁকে তলব করে নোটিস পাঠায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট! কিন্তু বারবার হাজিরা এড়িয়ে যান সোনা পাপ্পু। মাঝেমধ্যে সমাজমাধ্যমে লাইভ করলেও তাঁর খোঁজ মেলেনি। তাঁর বাড়িতে হানা দেয় ইডি-ও।এরমধ্যেই কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কর্তা শান্তনু সিনহাকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপরেই সোমবার একেবারে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন বিশ্বজিৎ। প্রবেশের সময়ে তাঁর দাবি, “আমি কোথাও যায়নি, কোনও অন্যায় করিনি।”
সোমবার সল্টলেকে ইডি দপ্তরে প্রবেশের সময় পাপ্পুকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা করছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনও দোষ করিনি।’’ তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সেই নিয়ে পাপ্পু বলেন, ‘‘জীবনে কোনও দিন তোলাবাজি করিনি। আমার সোনার দোকান রয়েছে। আজ পর্যন্ত কোনও থানায় আমার বিরুদ্ধে তোলাবাজির কোনও অভিযোগ করা হয়নি।’’
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে জমি দুর্নীতি এবং প্রতারণার মামলার তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই মামলার তদন্ত শুরু হতেই পাপ্পুর বাড়িতে হানা দেন তদন্তকারীরা। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ কয়েক কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়। শুধু তাই নয়, এই মামলায় তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামরা এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহাকে জেরা করে ইডি। ইতিমধ্যে দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।এমনকী সোনা পাপ্পুর সঙ্গেও ধৃতদের যোগাযোগও উঠে আসে তদন্তে।
অন্যদিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সল্টলেকের দপ্তরে সোমবার হাজিরা দিলেন পাঁচু রায়। গত কয়েকদিন আগেই এই মামলায় দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে তলব করে ইডি। সেই মতো আজ, সোমবার হাজিরা দেন পাঁচু রায়। জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু নতুন তথ্য ইডি গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এদিন তৃণমূল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।





