পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে (Middle East Crisis) পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে গেল। বৈঠকে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (J D Vanse) এবং ইরানের প্রতিনিধিরা। বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে দায় চাপিয়েছে।
বৈঠক শেষে জেডি ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছিল। বিশেষ করে ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল। তবে সেই বিষয়ে কোনও ঐকমত্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। ফলে কোনও সমাধান ছাড়াই আলোচনা শেষ করতে হয়।
অন্যদিকে, ইরান এই ব্যর্থতার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছে। দেশটির সরকারি সূত্রের দাবি, আমেরিকা শুরু থেকেই অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, আলোচনায় বাস্তব সমাধানের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র কেবল শর্ত আরোপেই বেশি মনোযোগ দেয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবেই বৈঠককে ব্যর্থ হতে দেয়।
ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (ismail Baghai) বলেন, পুরো আলোচনা অবিশ্বাসের পরিবেশে হয়েছে। এক দফা বৈঠকে বড় কোনও সাফল্যের আশা করাও বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। যদিও কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, তবে মূল দুটি ইস্যুতে মতবিরোধ রয়ে গিয়েছে, যা চুক্তির পথে প্রধান বাধা।
এদিকে, হরমুজ প্রণালীর (Straight Of Hormuz) পরিস্থিতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তিসঙ্গত চুক্তি না হলে এই পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হবে না। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আলোচনায় বসার ব্যাপারেও তাদের তাড়াহুড়ো নেই।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠকের ব্যর্থতা পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





