Header AD
Trending

অবৈধ নির্মাণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রাজ্য সরকারের, তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

suvendu nabanna

মঙ্গলবার তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর অবৈধ নির্মাণ ও বেআইনি কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার।বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শহরের কোথাও অনুমোদনহীন বহুতল বা কারখানা চলতে দেওয়া হবে না। বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভবনের বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিপজ্জনক ও অবৈধ নির্মাণ দ্রুত ভেঙে ফেলার কথাও বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের একটি চারতলা ভবনের দোতলায় থাকা চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার পরই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে রাজ্য সরকার।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়া তদন্ত রিপোর্টে উঠে আসে, যে ভবনে আগুন লেগেছিল সেটি সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে নির্মিত। তিনি বলেন, তপসিয়ার কেসের যে রিপোর্ট হাতে এসেছে তা অশনি সঙ্কেত।বাড়িটা অবৈধ নির্মাণ,ভবনের কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না।” এমনকি কারখানায় ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না বলে জানা গিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “সিইএসসিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এরপর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় জড়িত অবৈধ কারখানার মালিকদের ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তিনি বলেন, “তিলজলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবৈধ কারখানার মালিকদেরও।” তিনি আরও বলেন, শুধু আইনি পদক্ষেপ নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুরের মতো জায়গায় এই ধরণের সে যব অবৈধ কারখানা রয়েছে তারা এখনই সতর্ক হয়ে যান।” এই ধরণের নির্মাণ চিহ্নিত করতে দ্রুত অভ্যন্তরীণ অডিট চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসিকেও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এমনকি জল সরবারহ বন্ধের কথাও বলা হয়েছে। এই ধরণের অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে তা একদিনের মধ্যে ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম আপস করবে না সরকার। বেআইনি নির্মাণ বা নিরাপত্তাহীন কারখানার বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা।