Header AD
Trending

তৃণমূল দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা সুখেন্দুশেখর রায়ের! বিস্ফোরক অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি

mamata sukhendu

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের ইতি টেনে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় পদ থেকেও সরে দাঁড়ান তিনি। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—তবে কি সক্রিয় রাজনীতি থেকেই বিদায় নিতে চলেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা? যদিও সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।ইস্তফার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের কার্যপদ্ধতি নিয়ে একের পর এক তীব্র সমালোচনা করেন সুখেন্দুশেখর।

তাঁর অভিযোগ, দলের ভিতরে গণতান্ত্রিক আলোচনা ও মতামত গ্রহণের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “দল যেভাবে চলা উচিত, চলেনি। এত বড় বিপর্যয়ের পর যেভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার ছিল, তা হয়নি। যাঁরা নানা কমিটিতে রয়েছেন, তাঁদের মতামত নেওয়া হত না। নিরুপায় হয়ে তা সত্ত্বেও অনেকে দাঁতে দাঁত চেপে ছিলেন। মানুষ সরকারের প্রতি অনাস্থাজ্ঞাপন করেছে। মানুষ যখন অনাস্থাজ্ঞাপন করে তখন আমি বুঝতে পেরেছি দল জনমন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।”

সুখেন্দুশেখরের দাবি, ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই দুর্নীতির বীজ রোপিত হয়েছিল এবং পরে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। তিনি চিটফান্ড-কাণ্ড, বিতর্কিত আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্নও উত্থাপন করেন।

দলের মধ্যে সৎ ও আদর্শবাদী নেতাদের গুরুত্ব কমে গিয়েছিল বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়,“নির্দিষ্ট কিছু লোক সারাক্ষণ নেতৃত্বের পাশে ঘোরাফেরা করছে। জনবিচ্ছিন্ন মানুষ যাঁদের অতীত নেই কোনও তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরলে হয়তো কিছু রোজগার হতে পারে। কিন্তু রাজনীতি নয়। দলের প্রশাসক যখন মানুষের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়, তখন নেতা এবং দলের পতন অনিবার্য।”

তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পত্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের আর্থিক লেনদেন নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও ফরেন্সিক অডিটের দাবি তোলেন।

আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এই ইস্যুতে তিনি আগেও সরব হয়েছিলেন বলে জানান। তাঁর দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলার কারণেই তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বদলে তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই সময় থেকেই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মনে সংশয় তৈরি হয়েছিল বলে জানান।

সুখেন্দুশেখরের মতে, আর জি কর-কাণ্ডকে ঘিরে মানুষের ক্ষোভ ও ব্যাপক জনআন্দোলনই প্রমাণ করে দিয়েছিল যে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর অসন্তোষ জমা হচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফলের মাত্র কয়েক মাস পরেই মানুষের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে শামিল হওয়া তাঁর কাছে বড় রাজনৈতিক বার্তা ছিল।

তবে ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক পথ কী হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি। সক্রিয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়াবেন, নাকি নতুন কোনও ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে—সেই উত্তর আপাতত সময়ের হাতেই রইল।