পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্যে আয়োজিত একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরের মাত্র দু’দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে একটি আবেগঘন চিঠি পাঠালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২২ জুন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো তিন পাতার ওই চিঠিতে মোদি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসার পাশাপাশি উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও।
চিঠির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ‘পরম সম্মানীয় মোদীজি’ বলে সম্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অপশাসনের অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এখন উন্নয়ন, সুশাসন ও অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে। রাজ্যের মানুষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি।
চিঠির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে শিক্ষাবিদ ও জননেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের উল্লেখ। শুভেন্দুর বক্তব্য, ১৯৪৭ সালে বাংলার একটি অংশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছিল এবং বহু বাঙালি নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছিলেন।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশভাগ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে যারা ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিএএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে এই আইন কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করেছে।
এছাড়া, ২০২৬ সালকে বাংলার ইতিহাসে একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বছর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, এ বছর সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিঠির শেষাংশে নরেন্দ্র মোদির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বে ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মধ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে।





