Header AD
Trending

বেলেঘাটায় ‘অবৈধ’ বহুতল ভাঙাকে ঘিরে উত্তেজনা, তৃণমূল নেতা প্রোমোটার রাজুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ

Beliaghata Flat Demolition

‘অবৈধ’ নির্মাণের অভিযোগে কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) নোটিশ ঘিরে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলেঘাটা এলাকা। তৃণমূল নেতা তথা প্রোমোটার রাজু নস্করের (Raju Naskar) নির্মীয়মাণ একটি বহুতলে বুলডোজ়ার চালায় পুরসভা। এর পর থেকেই ফ্ল্যাট ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)।

পুরসভার তরফে বেলেঘাটার বারোয়ারিতলা রোড এবং ইস্ট কুলিয়া রোডে রাজু নস্করের দুটি বহুতলকে ‘অবৈধ’ নির্মাণ বলে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, দুটি টাওয়ারে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট ছিল। এর মধ্যে ইস্ট কুলিয়া রোডের নির্মীয়মাণ বহুতলের একাংশ ভেঙে ফেলে পুরসভা।

নোটিশের খবর সামনে আসতেই ফ্ল্যাট ক্রেতাদের একাংশ সোমবার রাজু নস্করের অফিসে যান। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তাঁরা অফিস তালাবন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। সেই সময় স্কুটিতে করে যাওয়া এক যুবককে রাজুর ঘনিষ্ঠ বলে সন্দেহ করে ঘিরে ধরেন কয়েক জন বিক্ষোভকারী। তাঁকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। এলাকায় কিছু ক্ষণ উত্তেজনা ও বচসা চলে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বহু ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত এগ্রিমেন্ট পেপার বা বিল্ডিং প্ল্যান দেখানো হয়নি। সোমবার নথি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জমির উপর বহুতলগুলি তৈরি হচ্ছিল, সেই জমির মালিক দুই বৃদ্ধা মহিলা। তাঁদের মধ্যে একজন হৃদরোগে আক্রান্ত, অন্য জন বিধবা। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের আশ্বাস দিয়ে এসেছিলেন রাজু নস্কর। গত সেপ্টেম্বর মাসে পুরসভা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও, তিনি নাকি বিষয়টি ‘মিটিয়ে নেওয়া হবে’ বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। সেই বিশ্বাসেই অনেকে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন তাঁদের আশঙ্কা, ফ্ল্যাট তো দূরের কথা, টাকাও হয়ত ফেরত মিলবে না।

সোমবার দুপুরে একাধিক ক্রেতা  বেলেঘাটা পুলিশ স্টেশনে (Beliaghata Police Station) গিয়ে রাজু নস্করের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেলেঘাটার এক বাসিন্দাকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনাতেও রাজুর নাম জড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।