যাঁর কণ্ঠকে অনেকেই লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতেন, সেই সুমন কল্যাণপুর (Suman Kalyanpur) আর নেই। ভারতের সঙ্গীতজগতে ফের নেমে এল শোকের ছায়া। প্রবীণ কিংবদন্তি গায়িকা ৮৯ বছর বয়সে রবিবার (৩১ মে) প্রয়াত হয়েছেন। গত ১২ এপ্রিল প্রয়াত হয়েছিলেন আর এক কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের (Asha Bhosle) মৃত্যুর পর অল্প সময়ের ব্যবধানে ভারতীয় সঙ্গীত অঙ্গন হারাল আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।
১৯৩৭ সালের ২৮ জানুয়ারি তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সুমন হেম্মাডি। পরবর্তীতে সুমন কল্যাণপুর নামে তিনি হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি ভজন, গজল, অভঙ্গ এবং ভাবগীতিতেও তাঁর সমান দখল ছিল।
মুম্বইয়ের সেন্ট কলম্বা স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ভর্তি হন জেজে স্কুল অব আর্টে। চিত্রকলার পাশাপাশি সঙ্গীত শিক্ষাও নেন পণ্ডিত কেশবরাও ভোলে, উস্তাদ খান আবদুল রহমান খান এবং মাস্টার নবরংয়ের কাছে।
পঞ্চাশের দশকে ‘শুক্রাচি চাঁদনি’ ও ‘মাঙ্গু’ ছবির মাধ্যমে সাফল্যের স্বাদ পান সুমন। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় গান তাঁকে পৌঁছে দেয় শ্রোতাদের হৃদয়ের মণিকোঠায়। তাঁর গাওয়া ‘রহেঁ না রহেঁ হম’, ‘আজকাল তেরে মেরে পেয়ার কে চর্চে’, ‘না না করতে পেয়ার’, ‘না তুম হামে জানো’ এবং ‘পর্বতোঁ কে পেড়োঁ পর’-এর মতো গান আজও সমান জনপ্রিয়।
বিশেষ করে মহম্মদ রফি (Mohammed Rafi)-র সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি ষাটের দশকে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই সময় লতা মঙ্গেশকর ও রফির মধ্যে মতবিরোধের জেরে বহু গানে রফির সঙ্গী হিসেবে উঠে এসেছিলেন সুমন। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য এবং স্বরলহরী এতটাই লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল যে অনেক সাধারণ শ্রোতা দুই শিল্পীর কণ্ঠ আলাদা করতে পারতেন না।
১৯৫৮ সালে ব্যবসায়ী রমনন্দ কল্যাণপুরকে বিয়ে করেছিলেন সুমন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর কন্যা চারু অগ্নি। সুরের জগতে তাঁর অবদান এবং অমর গান আগামী প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





