সোমবারই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) ফলাফল প্রকাশ। সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। তার ঠিক আগে, শনিবার ২৯৪ কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে শনিবার প্রায় ঘণ্টা তিনেক ভারচুয়াল বৈঠক সারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৈঠকে কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতার (Mamata Banerjee) পরামর্শ, ‘‘আপনাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। কাউন্টিং সেন্টারে চোখ খোলা রাখবেন। ডেটা ঠিক করে কম্পিউটারে তুলছে কিনা, সেদিকে নজর রাখবেন। অন্যদিকে ভোট গণনায় কী কী কারচুপি হতে পারে সেই বিষয়ে দলীয় এজেন্টদের বিশদে বুঝিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর দলীয় কর্মীদের প্রতি অভিষেকের পরামর্শ, ” মেশিন আনার পর ফর্ম ১৭ সি- এর সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর মেলাতে হবে। যদি না মেলে ইভিএম খোলা যাবেনা। তখন ভিভি প্যাট কাউন্টিং এর দাবি জানাতে হবে। নম্বর মিলে গেলে পরের স্টেপ হল সিল, তারিখ, সময় মিলিয়ে নিতে হবে। এরপর কন্ট্রোল ইউনিটের সুইচ অন করবেন টোটাল কাউন্টিং করবেন। আপনারা ডায়রি নিয়ে যাবেন। প্রত্যেক মেশিনের সিরিয়াল নম্বর থেকে আমাদের প্রার্থী, অন্য প্রার্থী কত ভোট পেয়েছে নোট করবেন। মনে রাখবেন এরা কিন্তু মহারাষ্ট্র, বিহার, মধ্যপ্রদেশে করেছে। এই জায়গাটা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। ওরা লেখার সময় ডেটা এন্ট্রির সময় ভুল লিখলে ধরতে হবে। যেখানে এন্ট্রি হবে যাতে আপনি সামনে দেখতে পান, সেকারণেই সামনের সারিতে সবাইকে বসতে হবে।”
পাশাপাশি অভিষেকের পরামর্শ, ” সন্দেহ বা গরমিল হলেই ভিভিপ্যাট কাউন্টিং এর দাবি জানাবেন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ হল,যখন কাউন্টিং টেবিল এ মেশিন আনা হবে তখন ব্যাটারি পার্সেন্টেজ লক্ষ্য করবেন। এই পার্সেন্টেজ যদি ৭০ পার্সেন্ট হয় বা তার বেশি তখনই ভিভিপ্যাট কাউন্টিং এর দাবি জানাবেন। কারণ সারাদিন কাজের পর এই পার্সেন্টেজ ৫০ এর মত থাকা উচিত।”
” সারা বাংলা জুড়ে ৮৪ টি কাউন্টিং সেন্টার করা হয়েছে। প্রত্যেকটি সেন্টার-এর বাইরে অন্তত ৪ থেকে ৫ হাজার কর্মী জমায়েত থাকবে। ছাত্র – যুব – ট্রেড ইউনিয়ন – মহিলারা থাকবেন। জিতে গেছি বলে ঢিলেমি দিলে চলবে না।আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ” বার্তা অভিষেকের।
একুশের নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথা মনে করিয়ে অভিষেকের আরও বক্তব্য, ‘‘ওরা চাইবে লোডশেডিং করতে, বাহিনী দিয়ে অত্যাচার করা। ছাত্র সংগঠন ট্রান্সফরমার ঘিরে রাখবে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে নজর রাখবেন। সিআরপিএফ যদি অত্যাচার করে, আপনারাও ঝান্ডা নিয়ে থাকবেন। আমাকে যদি কেউ মারে আমার আত্মরক্ষার অধিকার আছে। কোথাও অবজার্ভার গিয়ে বলল, আপনাকে থানায় যেতে হবে।কেউ এরকম বললে লিখিত দেখতে চাইবেন। থানায় নিয়ে যেতে হলে পুলিশ করবে। এগুলো ভয় দেখানোর কৌশল। আগামী দু’দিন শক্ত থাকবেন। একটা বাঙালির উপর ডান্ডা পড়লে তার জবাব হবে।” দলীয় নেতৃত্বের কাছে অভিষেকের আবেদন, “RO – ARO টেবিল সরাসরি এজেন্টরা দেখবেন। অনেক সিনিয়র আছেন যারা সাধারণত কাউন্টিং সেন্টারে যান না। এবারে প্লীজ যান। এবারের ভোট টা অন্যরকমের।”
অভিষেক এজেন্টদের উদ্দেশে বলেন, ” গণনার আগে আগামীকাল, রবিবার একটা ট্রেনিং মডেল দেওয়া হবে। ১০ মিনিটের একটা ভিডিও পাঠানো হবে। সেখানে প্রার্থী এজেন্টদের দায়িত্ব কি সবটা বলা থাকবে।”





