Header AD
Trending

‘ভোটলুট করে রাজশাসনে বসেছেন!’ ফলপ্রকাশের ২০ দিন পর শুভেন্দুর সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন মমতা

cm bhawanipur

অবশেষে ভোটের ফলপ্রকাশের ২০ দিন পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রথমবার মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় মমতা দাবি করেন, ‘‘চার তারিখে কাউন্টিং (গণনা) হয়েছে। আজ ২৪ তারিখ। এই ২০ দিন মুখ বুজে সহ্য করেছি। শুধু আমি নয়, বাংলার মানুষ থেকে তৃণমূলের কর্মীরা সহ্য করছেন। অনেকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন। ১২ জন মানুষ মারা গিয়েছে। আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। সকলকে জোর করে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইলেক্টেড বডিগুলোকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কলকাতা কর্পোরেশনের মতো বড় কর্পোরেশনের জল, রাস্তা-সহ বিভিন্ন উন্নয়নের কাজে বাধা আসছে।’’

বিধানসভা ভোটে পর্যুদস্ত হওয়ার তিন সপ্তাহ পর নয়া অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল বিধানসভা ভোটে হারেনি। মানুষ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের হারানো হয়েছে। বিজেপিকে সাহায্য করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এমনকি, ভবানীপুরেও তাঁকে জোর করে হারানো হয়েছে। এ নিয়ে আদালতে যা বলার বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। রবিবার ফলতা উপনির্বাচনের ফলঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari ) বিঁধে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভবানীপুরে কী ভাবে জিতেছেন? সেটা আদালতে বলব। আপনার যদি সাহস থাকে তো ফরেনসিক রিপোর্ট করান। ইভিএমের রিপোর্ট চাই আমাদের।’’

Oplus_16908288

তৃণমূলনেত্রীর আরও অভিযোগ, ক্ষমতাবলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে বিজেপি। ইচ্ছাকৃত তৃণমূলের নেতা-কাউন্সিলরদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। লুট হয়েছে তৃণমূলের প্রায় ২ হাজার কার্যালয়। মমতার কথায়, ‘‘ আমি তো মনে করি, তাঁর আগে জেলে যাওয়া উচিত। সারদা থেকে নারদা, কোথায় নেই তিনি?”

‘মুখ্যমন্ত্রী’ শুভেন্দুর তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেন, ‘‘আমিও প্রশাসন চালিয়ে এসেছি। আমরা উর্দিধারীদের কখনও বলিনি এই সব কাজ করতে। আজ একটা মিটিং করতে গেলে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। প্রতি দিন আমাদের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মিউনিসিপ্যালিটির ঘরগুলো গুন্ডারা দখল করছে। আড়াই হাজারের বেশি পার্টি অফিস লুম্পেনেরা দখল করেছে পুলিশকে সামনে রেখেই। পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গেলে বলছে, ইনস্ট্রাকশন আছে!”

পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, এবার ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। তৃণমূলনেত্রী অভিযোগ, ‘‘ জেনেশুনে ৬০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমরা লড়াই করে ৩২ লক্ষের নাম তুললেও ২৭ লক্ষ এবং পরে বিজেপি আরও সাত লক্ষ নাম জমা দিয়েছিল। তার পর রিগিং হয়েছে। আমাদের কাছে স্পেসিফিক খবর আছে, সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিশনের অফিস থেকে ‘ডেটা হ্যাকিং’ করা হয়েছে। খবরগুলো এক এক করে কানে আসছে। বিজেপির লোকেরা সিআরপিএফের ড্রেস পরে কাউন্টিং হলে ঢুকে গিয়েছে। পরিকল্পিত ভাবে মিডিয়া দিয়ে আগেভাগে ২০০ আসনে জিতিয়ে দেওয়া…সকলেই জানেন।’’ তৃণমূলনেত্রীর সংযোজন, ‘‘যিনি এখন চেয়ারে বসেছেন, তাঁর তো ওই চেয়ারে বসারই কথা নয়। ভোটলুট করে রাজ্যশাসনে বসেছেন। তিনি কী করে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বুঝবেন। তৃণমূল কংগ্রেস দেখলেই কয়েকটা লুম্পেন চোর-চোর বলে বেড়াচ্ছে। এরা বাংলার লোক নয়, বহিরাগত। ক্ষমতায় এসে বুলডোজ়ার চালিয়ে মানুষের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে!’’

তিনি যে বিধানসভার প্রার্থী ছিলেন, সেই ভবানীপুরেও ভোট লুট হয়েছে বলে আবার অভিযোগ করেছেন মমতা। তাঁর কথায়, “আমার কেন্দ্রে আমি ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম। যিনি এখন গদিতে বসেছেন, তিনি নিজে বসে লুট করছিলেন। আমাকে ঘাড়ধাক্কা দিতে দিতে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ তিনি দাবি করেন, “আমরা ২২০ থেকে ২৩০ আসন পেতাম।’’

এদিন শুভেন্দুর প্রশাসনকে নিশানা করতে ছাড়েননি মমতা। তাঁর দাবি, তৃণমূল আমলের প্রকল্পের সমালোচনা করে এখন সেগুলোই নাম বদলে রাখা হচ্ছে। আবার তাঁর আমলে সরকারের কাজকে এখনকার বলে দাবি করছে বিজেপি। মমতা বলেন, “ আমরা গড়ে এসেছি। অনেক কিছু বন্ধ করে দিয়েছেন। মে মাসে কেউ লক্ষ্মীর ভান্ডার পায়নি। পরের মাস থেকে দু’ মাস, তিন মাস দেবে। তার পর অন্ধকার অন্ধকারেই থেকে যাবে।’’ তিনি আরও দাবি করেন, “আপনারা বললেন সপ্তম পে কমিশন আপনারা করলেন। আমরা বাজেটে ঘোষণা করেছিলাম। এ জন্য ক্যাবিনেট রয়েছে। এগুলো সব ধার্য হয়েছিল। আমাদেরই করে যাওয়া জিনিসগুলোকে নানা নাম দিচ্ছেন।’’