Header AD
Trending

‘এবারের সন্ত্রাস, সব সন্ত্রাসকে ছাড়িয়ে গিয়েছে!’ ফলপ্রকাশের পর দাবি ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ তৃণমূল নেত্রীর

mamata free bird

“আমাদের প্রথম কথা আমরা হরিনি। ১০০ আসন লুঠ করা হয়েছে। দিল্লী থেকে কায়দা করে প্রেসকে বলেছে। প্ল্যান করে করা হয়েছে। আমাদের লড়াই বিজেপির সঙ্গে ছিল না। লড়াই ছিল কমিশনের বিরুদ্ধে। ৯৪ শতাংশ পোল। নির্বাচনের দুদিন আগে রেইড করতে শুরু করলো। সব পুলিশ বদলে দিল। বিজেপি কমিশনের সঙ্গে মিলে গট আপ বেটিং করল। মেশিন ট্যামপার করল। এতে মোদী – শা যুক্ত। এত নাম বাদ গেল। কোর্টে যাওয়া হল। নোংরা গেম খেলা হয়েছে। এরকম নির্বাচন আমি আগে কখনও দেখিনি। ২০০৪ সালে যখন আমি একা ছিলাম তখনও এরকম দেখিনি। ৭২ এর সন্ত্রাস হয়েছিল, শুনেছি, আমি দেখিনি। কিন্তু এই ভোটের সন্ত্রাস সব সন্ত্রাসকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।” ফলপ্রকাশের পর মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে এই ভাষাতেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিন কালীঘাটের কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, “আমরা তো হারিনি। জোর করে মিথ্যা বলে অত্যাচার করে হারিয়েছে।গণনাকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ফর্ম ১৭সি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ওরা এমনি জিতলে আমার কিছু বলার থাকত না। নির্বাচনে তো হারজিত আছে। কিন্তু আমরা হারিনি। ইস্তফা কেন দেব? কেউ যদি জোর করে ইস্তফা দিতে, আমি বলব, না এটা হবে না। এখানে বিজেপির কথায় কমিশন খেলেছে সরাসরি।”

এদিন তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমও দেখাতে শুরু করল বিজেপি জিতছে। ৩-৪ রাউন্ড পর থেকেই আমাদের ছেলেদের উপর অত্যাচার শুরু করল। মেরেছে, মেয়েদেরও ছাড়েনি। ” এই নির্বাচন পর্বকে ইতিহাসের ‘কালো অধ্যায়’ বলে চিহ্নিত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘আমরা বাঘের মতো লড়াই করেছি। আমার দলের কর্মীদের অনেকে বিজেপিতে যোগ দেবে জানি। কারণ বাঁচতে হবে। তাতে আমি কিছু মনে করি না। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেই মা-মাটি-মানুষকে ধন্যবাদ। তাদের ভোট আমরা রক্ষা করতে পারলাম না। আমি ক্ষমা চাইছি তার জন্য।”

ফল প্রকাশের পর ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা তাঁকে ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, “সনিয়া – রাহুল – অখিলেশ – উদ্ধব সবাই ফোন করেছে। অখিলেশ কাল আসছে। আমার লক্ষ্য একেবারে স্থির। আমরা ইন্ডিয়া টিমকে শক্তিশালী করব। আমি এখন ফ্রি বার্ড। এই এতগুলো বছরে একটা টাকাও নেয়নি। আমি আমার কাজ করব।” এরপরই বিজেপি ও সিআরপিএফের অত্যাচার নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি বলেন,” দলিতদেরও ছাড়েনি। চারদিকে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। গোটা বাংলা জুড়ে অশান্তি করছে। বিজেপির গুন্ডারা এসব করছে। বিজেপি ভাবছে ওদের মতো করেই সবাই চলবে তা হবে না। আমরা জেতার পর কোনও সিপিএমের পার্টি অফিসে আক্রমণ করিনি। রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজিয়েছি। এরা কি করছে। এটা সেন্ট্রাল বাহিনী? গণনা কেন্দ্রের ভিতরে সবাইকে মেরে বের করে দিয়েছে। যদুবাবুর বাজারে আমার গাড়ি আটকানো হয়। আমাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। যা তা চলছিল। বললাম সব বন্ধ কর। ডিও -কে বললাম কী হচ্ছে? ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে। পিঠে মেরেছে। ধাক্কা দিয়ে ওখান থেকে বের করেছে আমাকে। একজন মহিলা হিসেবে শুধু নয়, একজন মানুষ হিসেবে ওরা যা করেছে বুঝতে পারছি বাইরে কি করছে। যারা মার খাচ্ছে দল তাদের সঙ্গে আছে। আমরা লড়াই করব।
ওরা সবাইকে বলছে বিজেপি যোগ দিতে। দিতেই পারে বাঁচার জন্য। কিন্তু পরে আর করবে না।”

পরাজয়ের পর নতুন করে দলের নীতি নির্ধারণ করবেন বলেও জানালেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, “আমাদের স্ট্র্যাটেজি এখন বলব না।
১০ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি হবে। তারা ঘুরবে আক্রান্ত এলাকায়। কাল তৃণমুল ভবন দখল করতে গিয়েছিল। অভিষেকের অফিসেও গিয়েছিল। আপনারা এভাবে টর্চার করতে পারেন না। “

নির্বাচন কমিশনকে ‘ভিলেন’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, “ওরা এমনি জিতলে আমার কোনো অভিযোগ থাকত না। আমরা হারিনি জোর করে ক্যাপচার করা হয়েছে। ওরা যা খুশি তাই করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এভাবে ব্যবহার হতে পারে কল্পনা করা যায় না। ” ২৮ মিনিটের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, “আমার কোনও চেয়ার নেই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার কোনও অসুবিধা হচ্ছে না তাতে। এবার আমি রাস্তায় নামব।”