বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ঘিরে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন দলেরই একাংশের নেতা-কর্মীরা। কেউ সংবাদমাধ্যমে সরব হচ্ছেন, কেউ আবার সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছেন। এমনকি কয়েকজন নেতার বক্তব্যে বিজেপির প্রশংসাও উঠে আসছে, যা তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করেছে তৃণমূল। দলের তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন নেতা বা কর্মী ব্যক্তিগতভাবে যা মন্তব্য করছেন, তা দলের অবস্থান নয়। দল কোনও সিদ্ধান্ত বা মত প্রকাশ করলে তা আনুষ্ঠানিকভাবেই জানানো হবে।

এরই মধ্যে তৃণমূলের তরুণ নেতা এবং অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কোহিনূর মজুমদার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, কর্পোরেট ধাঁচের রাজনীতি, প্রবীণ নেতাদের গুরুত্বহীন করে দেওয়া এবং অযোগ্যদের সামনে আনার সংস্কৃতির জেরেই দলের এই ভরাডুবি হয়েছে।
একই সুর শোনা গিয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক তথা মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর গলাতেও। তিনি দাবি করেছেন, অভিষেকের নেতৃত্বেই দল ধীরে ধীরে দুর্বল হয়েছে। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব বুঝতেন, কিন্তু কার্যত ধৃতরাষ্ট্রের মতো নীরব থাকতে বাধ্য হয়েছেন।”
উত্তরবঙ্গ থেকেও উঠে এসেছে ক্ষোভের সুর। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (সমতল) কোর কমিটির সদস্য এবং প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কন্যা পাপিয়া ঘোষ অভিযোগ করেছেন, গৌতম দেবের নেতৃত্বেই উত্তরবঙ্গে সংগঠন ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংগঠনের দায়িত্ব সামলানো পাপিয়ার মতে, ভুল নেতৃত্বের কারণেই উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে দলের মুখপাত্র ঋজু দত্তর বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিয়োবার্তায় তিনি জানিয়েছেন, গত দু’দিনে নিজের দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলেও বিজেপির নেতারা তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার খোঁজ নিয়েছেন। পাশাপাশি, দলের নির্দেশে অতীতে করা রাজনৈতিক আক্রমণের জন্য শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বুধবার কালীঘাটে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলীয় সূত্রের খবর, সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না। দলের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং ধনেখালির জয়ী প্রার্থী অসীমা পাত্র।





