Header AD
Trending

শুল্কের অর্থে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা মহান’ স্বপ্নে ধাক্কা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে থামল নির্দিষ্ট দেশের উপর কর

trump kharg island

বিদেশি পণ্যের উপর শুল্ক বসিয়ে ‘আমেরিকাকে মহান’ করার যে প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), তাতে বড় ধাক্কা দিল সেদেশের সর্বোচ্চ আদালত। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জেরে বাধ্য হয়েই ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট পণ্যের উপর আরোপিত শুল্ক (tariff) প্রত্যাহারের পথে হাঁটছে। শুল্ক দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই এই কর আদায় বন্ধ হবে। এর ফলে রুশ তেল কেনার অভিযোগে ভারতের উপর যে আলাদা শুল্ক বসানো হয়েছিল, সেটিও আর কার্যকর থাকবে না।

গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের চাপানো এই শুল্ককে বেআইনি বলে রায় দেয়। তবে রায়ের পর তিন দিন কেটে গেলেও প্রশাসনের তরফে কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত সোমবার মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দপ্তর জানায়, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল এমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)-এর আওতায় যে কর বসানো হয়েছিল, সেগুলি আর দিতে হবে না। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট দেশ বেছে নিয়ে আরোপ করা কর বন্ধ হচ্ছে। যদিও সার্বজনীনভাবে আরোপিত শুল্ক বহাল থাকছে।

এই বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে ভারতের উপর আলাদা করে বসানো কর আর আদায় করতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিশ্বের সব দেশের পণ্যের উপর আগে থেকেই আরোপিত ১৫ শতাংশ সার্বজনীন শুল্ক এখনও কার্যকর। ফলে আমেরিকায় পণ্য রফতানি করতে গেলে সেই কর গুনতেই হবে।

অর্থনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক বসালেও মার্কিন অর্থনীতির বড় ক্ষতি এড়ানো কঠিন। অসমর্থিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, IEEPA-র আওতায় থাকা শুল্ক থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার আয় করত আমেরিকা। এখন বড় প্রশ্ন, এতদিনে আদায় করা শুল্কের টাকা কি ফেরত দেবে প্রশাসন? যদি তা হয়, তবে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার রিফান্ড দিতেই বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ হবে। পাশাপাশি, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ভারতের মতো যে দেশগুলি দর কষাকষির পর চুক্তি করেছে, তারা কি চুক্তিভিত্তিক শুল্কহার পাবে? নাকি সার্বজনীন শুল্কই কার্যকর হবে, এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।