মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় (Middle East crisis) নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেলভান্ডার খার্গ দ্বীপ (Kharg island) দখলের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া তাঁর কাছে “আকর্ষণীয়” বিকল্প, যদিও এ নিয়ে দেশে সমালোচনাও রয়েছে।
ট্রাম্প জানান, খার্গ আইল্যান্ড দখল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন সেনা কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ওই দ্বীপে হামলা চালিয়ে সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করলেও তেলভান্ডারে সরাসরি আঘাত হানা হয়নি।
হরমুজ প্রণালী (Straight of Hormuz) দিয়ে পণ্য পরিবহণে বাধা বন্ধ না হলে ইরানের তেল ভান্ডারে হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সেখানে মার্কিন নীতির সঙ্গে ইরানের পরিস্থিতির কিছু মিল রয়েছে। যদিও ইরানের ক্ষেত্রে একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
এদিকে, সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেনা নিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ট্রিপোলি (USS Tripoli) পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে। এই জাহাজটি উভচর হামলায় সক্ষম, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেলভান্ডারে হামলা চালায়, তাহলে তা শুধু আঞ্চলিক সংঘাতই বাড়াবে না, বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারেও (Crude oil price hike) বড় প্রভাব ফেলবে। এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় বসাতে উদ্যোগী হবে। বিভিন্ন দেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে।





