ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনও চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হলেও, কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আমেরিকা (USA) এবং ইরান (Iran)। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে পারে দুই দেশ। আগামী বৃহস্পতিবারই নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও বৈঠকটি আবার ইসলামাবাদে হবে নাকি অন্য কোথাও, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের একটি অভিজাত হোটেলে প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল পাকিস্তান। দীর্ঘ বৈঠকের পরও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও, সূত্রের দাবি—দুই পক্ষ প্রায় ৮০ শতাংশ বোঝাপড়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
তবে আলোচনার মাঝপথেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও, শেষ মুহূর্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয়, যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ‘হরমুজ় প্রণালী’ এলাকায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, কোনও ইরানি জাহাজ কাছাকাছি এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স (J D Vanse) ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’-এর অভিযোগ তুলেছেন।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, তার মেয়াদ শেষ হবে ২২ এপ্রিল। ফলে এই ব্যর্থ বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে এবং উভয় পক্ষই সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই বৈঠকটি ছিল গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি আলোচনা। ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের পর এত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক খুব কমই হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আলোচনায় মূলত ‘হরমুজ় প্রণালী’ (Straight of Hormuz), ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি (Nuclear Research) এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছিল।





