Header AD
Trending

‘আমরা তো হারিনি! ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?’ সাফ বক্তব্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

mamata pc

সোমবারে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ফলাফলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতেই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সেদিনই লোকভবনে গিয়ে ইস্তফা দিতে পারেন। তবে রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি সেই পথে হাঁটেননি।মঙ্গলবার কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই পরাজয় তিনি মেনে নিচ্ছেন না। তাঁর সাফ কথা, “আমরা তো হারিনি। ইস্তফার প্রশ্ন উঠছে কেন? হারলে দিতাম। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।নৈতিক ভাবে আমিই জিতেছি।”

মমতার অভিযোগ, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় চক্রান্ত করা হয়েছে। তাই কোনও অবস্থাতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না এবং রাজভবনেও যাবেন না। যদিও সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল আর এন রবি (R. N. Ravi) চাইলে মুখ্যমন্ত্রীকে ইস্তফার নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু সেই নির্দেশ এলেও তা মানবেন না বলেই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন মমতা। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, গণনার প্রথম কয়েক রাউন্ডের পর থেকেই তাঁদের কর্মীদের উপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার শুরু হয়। তাঁর দাবি, দলীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে, এমনকি মহিলাদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। এদিন সাংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘সংবাদমাধ্যমও সকাল থেকে দেখাতে শুরু করল বিজেপি জিতছে। ৩-৪ রাউন্ড পর থেকেই আমাদের ছেলেদের উপর অত্যাচার শুরু করল। মেরেছে, মেয়েদেরও ছাড়েনি। ১৭ সি ফরম কেড়ে নিয়েছে।” এরপরই গণনাকেন্দ্রে ঢোকার সময় তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি ভিতরে ঢুকলে আমার পেটে ও পিঠে মারে, ম্যানহ্যান্ডেল করে। ধাক্কা দিয়ে মারতে মারতে বের করে দিল। মহিলা হিসাবে শুধু নয়, একজন মানুষ হিসেবে আমায় যা অপমান করল, তাতে বুঝলাম সাধারন কর্মীদের সঙ্গে কী করেছে।”

শেষে মমতা বলেন, ‘‘এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।’’