রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের (Election 2026) পর সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সরকারি দপ্তরে কর্মরত লক্ষ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী। আগের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মীরা বছরের পর বছর সরকারি কর্মীদের মতোই দায়িত্ব সামলালেও তাঁদের চাকরি কখনও স্থায়ী হয়নি। স্থায়ীকরণের দাবিতে বারবার আন্দোলন হয়েছে, দাবি উঠেছে পথে-ঘাটে, কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা মেলেনি। এখন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই সেই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—চাকরি কি থাকবে, নাকি নতুন নিয়োগের নামে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হবে?
বর্তমানে রাজ্যে সরকারি চাকরিতে (Government jobs) প্রায় ৬ লক্ষ পদ ফাঁকা। অথচ স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা মাত্র ৩ লক্ষ ১৭ হাজারের কাছাকাছি। এই ঘাটতি সামলাতেই বছরের পর বছর ভরসা রাখা হয়েছে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর থেকে শুরু করে গ্রুপ-ডি স্তরের কাজ, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ারদের বড় অংশও এই অস্থায়ী ব্যবস্থার অংশ। সব মিলিয়ে এই সংখ্যাটা প্রায় ৫ লক্ষ।
আগের সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, এই কর্মীরা ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজে বহাল থাকতে পারবেন এবং অবসরের পর কিছু অবসরকালীন সুবিধাও পাবেন। কিন্তু সরকার বদলের পরে সেই আশ্বাস এখন অনেকের কাছেই অনিশ্চিত কাগজে লেখা প্রতিশ্রুতি বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—সরকারি শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি নবান্নের (Nabanna) বিভিন্ন দপ্তরে ওএসডি ও পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের কাজে যোগ দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়াকড়ির ইঙ্গিত মিলেছে। তাতেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
তবে প্রশাসনিক বাস্তবতাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, এই বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী কর্মীকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিলে সরকারি কাজকর্মে বড়সড় অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে, আর সেই ফাঁকে প্রশাসনের চাকা সচল রাখবে কে—এ প্রশ্নও এখন সমানভাবে উঠে আসছে। ফলে একদিকে স্থায়ী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে পাঁচ লক্ষ অস্থায়ী কর্মীর ভবিষ্যৎ—এই টানাপোড়েনই এখন রাজ্য প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।





