Header AD
Trending

কাঁচরাপাড়ার বেসরকারি স্কুল থেকে উদ্ধার ১.৭৭ কোটি নগদ! রাতভর তল্লাশি, আর কী মিলল?

money

কাঁচরাপাড়ার একটি বেসরকারি স্কুলে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার গভীর রাতে স্কুল চত্বরে তল্লাশি চালিয়ে একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং কম্পিউটারও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ অর্থের উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে এই টাকার যোগ থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই তদন্ত এগোচ্ছে।ঘটনার জেরে স্কুলের দুই কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।ইতিমধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ, প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছেন স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশ চন্দ্র পাল। তাঁর বক্তব্য, গত এপ্রিল মাস থেকে ভর্তি বাবদ জমা হওয়া অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল অ্যাকাউন্টস বিভাগের ওপর। কেন সেই টাকা ব্যাংকে জমা পড়েনি, তার ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট বিভাগকেই দিতে হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।পাশাপাশি তিনি জানান, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

এদিকে তল্লাশির সময় স্কুলের সিক রুম থেকে একাধিক কন্ডোম ও গর্ভ নিরোধক উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মিলেছে এসি বেডরুমও। এই ঘটনাকে ঘিরেও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্কুল ছুটির পর ওই ঘর অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা হত কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনও তথ্য তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেছেন প্রিন্সিপাল। তবে সিক রুমের আলমারি থেকে কন্ডোম উদ্ধারের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

রাজনৈতিক মহলেও ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ স্কুলের নয়। তাঁর অভিযোগ, এই টাকা আসলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কালো টাকা, যা স্কুলে গোপনে রাখা হয়েছিল। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এখন নজর তদন্তের দিকে—উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থের প্রকৃত উৎস কী এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।