বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে ৬০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে সংসদীয় বন্ধুত্ব গোষ্ঠী গঠন করল ভারত। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উদ্যোগে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের নাম রাখা হয়েছে নেতৃত্বে দেওয়ার জন্য, আর সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য একটি নাম হল তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই গোষ্ঠীর লক্ষ্য, ঐতিহ্যবাহী কূটনীতির পাশাপাশি আইন প্রণয়নভিত্তিক কাঠামোগত সহযোগিতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশের সংসদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা।
বিরোধীরা লোকসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যখন পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে সরব হয়ে তাঁর অপসারণের প্রস্তাব দিচ্ছেন তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তখনই এই সিদ্ধান্ত নিলেন অধ্যক্ষ। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন দেশের কাছে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মোট ৬৪টি প্যানেল তৈরি করা হবে। সেখানে থাকবেন বিরোধীরাও। প্রতিটি প্যানেলে ১১ জন করে সাংসদ থাকবেন। প্রত্যেকটি প্যানেলে অবশ্যই অন্তত এক জন মহিলা সাংসদ রাখতে হবে। তৃণমূলের অভিষেক ও ডেরেক, কংগ্রেসের পি চিদম্বরম, কেসি বেনুগোপাল, গৌরব গগৈ, শশী থারুর ও সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, এআইএমআইএমের আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, শিব সেনা দলের অরবিন্দ সওয়ন্ত, এনসিপি দলের সুপ্রিয়া সুলে থাকবেন সাংসদদের বিভিন্ন প্যানেলের নেতৃত্বের ভূমিকায়। এছাড়া বিভিন্ন সাংসদকে আরও নানা ভূমিকায় দেখা যাবে।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বার্তা দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের নিয়ে গঠিত এই গোষ্ঠীগুলি ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুত্ববাদী চরিত্রকে তুলে ধরবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। সংসদীয় বন্ধুত্ব গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য, সাংসদদের বিদেশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, আইন প্রণয়নের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নীতিগত আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করা। নিয়মিত মতবিনিময়, স্টাডি ভিজিট, নীতিগত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, সামাজিক নীতি, সংস্কৃতি ও টেকসই উন্নয়ন-সহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে এই দায়িত্ব অর্পণ করা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। দলীয় অন্দরে এবং জাতীয় স্তরে তাঁর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এই সিদ্ধান্তকে নতুন রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরছে। জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দলের অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে সহায়ক হতে পারে। কূটনৈতিক পরিসরে সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এটি একটি কৌশলগত উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।একই সঙ্গে, সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্ব মঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যই এই পদক্ষেপে স্পষ্ট, এমনটাই অভিমত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।





