Header AD
Trending

আবগারি মামলায় বেকসুর খালাস অরবিন্দ কেজরিয়াল-মণীশ সিসোদিয়া, রেহাই পেতেই চোখে জল আপ সুপ্রিমোর

অবশেষে আবগারি দুর্নীতি মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল (Arvind Kejriwal) ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসৌদিয়া (Manish Sisodia)। এদিন আদালতের রায় শুনে কেঁদে ফেললেন কেজরীওয়াল। এই মামলা থেকে তাঁকে এবং প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসৌদিয়াকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। সঙ্গে আম আদমি পার্টির আরও ২১ জন নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, দিল্লির তথাকথিত বিতর্কিত আবগারি নীতিতে কোনওরকম অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র ছিল না। তা প্রমাণ করতে পারেনি সিবিআই। উপরন্তু সিবিআইয়ের দেওয়া চার্জশিটে অনেক ত্রুটি রয়েছে। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে কেজরীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, আবগারি মামলায় কেজরী এবং মনীশ দীর্ঘ দিন জেলে ছিলেন।

আদালতের রায় শোনার পরেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ প্রধান। বলেন, “আপনারা কুর্সি চান, ভাল কাজ করে সেটা অর্জন করুন। এ ভাবে দেশের সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না। মনীশ সিসৌদিয়া সৎ, আম আদমি পার্টি সৎ।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি আমাদের উপর একের পর এক দোষ চাপাচ্ছিল, আদালত সব খারিজ করে দিয়েছে। সমস্ত অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমি প্রথম থেকেই বলে এসেছি, সত্যের জয় হবে। দেশের বিচারব্যবস্থার উপর আমার ভরসা ছিল। যে বিচারক আমাদের ন্যায়বিচার দিলেন, তাঁকে ধন্যবাদ।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। দাবি, আপ দলের পাঁচ জন বড় নেতাকে বিজেপি নিশানা করেছিল। কেজরী বলেন, ‘‘সিসৌদিয়াকে দু’বছর জেলে রাখা হয়। পুরো ভুয়ো মামলা। আমাদের উপর অনেক কাদা ছোড়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা টিভি চ্যানেলে খবর দেখানো হত। বলা হত, কেজরিওয়াল ভ্রষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত।’’ এই কথা বলেই কেঁদে ফেলেন কেজরী। কান্নায় তাঁর গলার স্বর বুজে আসে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ছ’মাস সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। তখন তাঁর কান্না পায়নি। আদালতের নির্দেশ শুনে তিনি কেঁদে ফেলেন। এরপর কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলেন, “আমি কট্টর সৎ মানুষ। আজ আদালত জানিয়ে দিল অরবিন্দ কেজরিওয়াল অসৎ নয়, মণীশ সিসোদিয়া অসৎ নয়।”

প্রসঙ্গত, ২০২৫ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ইস্যু ছিল আবগারি দুর্নীতি। বিজেপির অভিযোগ ছিল, দিল্লিতে আপ যে আবগারি নীতি চালু করেছিল তা রাজধানীর কোষাগারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্তত ২ হাজার ২৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে দিল্লি সরকারের। তাতে মূল অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরা হয়েছিল অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াকে। সব মিলিয়ে ৪০ জনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। সরাসরি অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে আম আদমি পার্টিকে। যা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। জেলে যেতে হয় কেজরিওয়ালকে। জেল থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রিত্বও ছাড়েন তিনি। মণীশ সিসোদিয়া-সহ দিল্লির একাধিক মন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়।