Header AD

রঞ্জি ট্রফিতে নতুন ইতিহাস, প্রথমবার ফাইনালে উঠেই চ্যাম্পিয়ন জম্মু-কাশ্মীর

ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে তৈরি হল এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়। প্রথমবারের মতো রঞ্জি ট্রফির মুকুট উঠল জম্মু ও কাশ্মীরের মাথায়। ফাইনালে শক্তিশালী কর্নাটককে তাদেরই ঘরের মাঠে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন পরশ দোগরা, আকিব নবিরা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কর্নাটকের তারকা ক্রিকেটার লোকেশ রাহুল, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণদের কার্যত চাপে রেখেছিল উপত্যকার দল।

এর আগে কখনও সেমিফাইনালেও পৌঁছতে পারেনি জম্মু ও কাশ্মীর। অথচ এ বার নকআউটে একে একে মধ্যপ্রদেশ, বাংলা ও কর্নাটকের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ট্রফি জিতে নেয় তারা। এই অভাবনীয় সাফল্যে বিস্মিত ক্রিকেট মহল। গ্যালারিতে বসে দলের জয় উপভোগ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও।

ফাইনালের চিত্র

প্রথম ইনিংসে ৫৮৪ রান তোলে জম্মু ও কাশ্মীর। জবাবে কর্নাটক অলআউট হয়ে যায় মাত্র ২৯৩ রানে। ২৯১ রানের বিশাল লিড নিয়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় উপত্যকার দল। ফলো-অন করানোর সুযোগ থাকলেও ঝুঁকি না নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালো না হলেও ওপেনার কামরান ইকবালের অনবদ্য ১৬০ এবং সাহিল লোতরার অপরাজিত ১০১ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ৩৪২ রান তোলে জম্মু ও কাশ্মীর। দু’জনের ১৯৭ রানের অটুট জুটি কর্নাটকের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। ৬৩৩ রানের অপ্রতিরোধ্য লিডে পঞ্চম দিনের চা বিরতির আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় জয়।

সাফল্যের নেপথ্য নায়কেরা

এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে একাধিক ক্রিকেটারের অবদান রয়েছে।

  • আব্দুল সামাদ: ১০ ম্যাচে ৭৪৮ রান
  • অধিনায়ক পরশ দোগরা: ৬৩৭ রান
  • কানাহাইয়া ওয়াধাবন: ৪৭৪ রান
  • আকিব নবি: ৬০ উইকেট
  • সুনীল কুমার: ৩১ উইকেট
  • যুধবীর সিংহ: ২১ উইকেট

ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ছিল দলের বড় শক্তি। কেউ একা নন, সবাই মিলে দলকে শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন।

সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে শিখরে

জম্মু ও কাশ্মীরে আধুনিক ক্রিকেট পরিকাঠামো খুব বেশি নেই। আবহাওয়ার কারণে বছরের অনেক সময় খেলার সুযোগও থাকে না। তবুও সীমিত সুযোগ-সুবিধা, কঠিন পরিবেশ আর নানা প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এই সাফল্য      এসেছে। দীর্ঘ ৬৭ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে রঞ্জি ট্রফির স্বপ্ন পূরণ হল। এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়—এটি আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও দলগত ঐক্যের প্রতীক। ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল জম্মু ও কাশ্মীর।