Header AD

কত দফায় ভোট বাংলায়, সিদ্ধান্ত আইনশৃঙ্খলার উপরেই! হিংসামুক্ত ভোটই লক্ষ্য, জানাল নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন কবে এবং কত দফায় হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই দফা নির্ধারণ করা হবে বলে জানালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। মঙ্গলবার দুপুরে রাজারহাটে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কত দফায় ভোট হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এসআইআর-পরবর্তী বাংলায় হিংসামুক্ত নির্বাচন করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

ভোট নিয়ে কমিশনের আশ্বাস

সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না। ভোটার বা নির্বাচন আধিকারিকদের উপর রাজনৈতিক চাপ এলে নির্বাচন কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে।

এ দিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও ছিলেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশি (Vivek Joshi) ও সুখবীর সিং সান্ধু (Sukhbir Singh Sandhu )। পাশাপাশি ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal)।

ভোটের প্রস্তুতিতে নতুন ব্যবস্থা

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে,

  • রাজ্যে প্রায় ৮০ হাজারের বেশি বুথ থাকবে।
  • কোনও বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার রাখা হবে না।
  • প্রতিটি বুথে থাকবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র।
  • স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব বুথে ওয়েবকাস্টিং করা হবে।
  • ইভিএমে প্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকবে।
  • ভোটাররা বুথের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল রেখে ভিতরে ঢুকতে পারবেন।
  • নির্বাচনের পরে ৭ দিনের মধ্যে চাইলে ইভিএম পরীক্ষা করাতে পারবেন প্রার্থীরা।

যুব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ দিতে কলেজে কলেজে সচেতনতা কর্মসূচিও চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের বক্তব্য

এসআইআর প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হল স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা। যদি কারও নাম ভোটার তালিকায় না থাকে, তবে ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। বর্তমানে যেসব নাম বিবেচনাধীন রয়েছে, সেগুলি বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হচ্ছে।

কবে ঘোষণা হতে পারে ভোটের নির্ঘণ্ট?

কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট ১৫ বা ১৬ মার্চের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২৩ জেলার প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। কমিশনের প্রাথমিক মূল্যায়ন—রাজ্যে ভোট করানোর মতো পরিস্থিতি রয়েছে। তিন দিনের এই সফরের শেষ দিনে কমিশনের প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, ডিজি পীযুষ পাণ্ডে এবং অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, সবদিক খতিয়ে দেখে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।