Header AD

দীর্ঘ ফর্মের গেঁড়োয় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’,আদৌ মিলবে ৩০০০! ‘ভোটের পর শুধুই স্মৃতি’, বিজেপিকে কটাক্ষ অভিষেকের

annapurna

‘৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি’ ঘিরে জোর বিতর্ক! অন্নপূর্ণা যোজনার জটিল ফর্মে চাপে রাজ্যের মহিলারা কার্যত নাজেহাল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। কিন্তু প্রকল্প চালুর আগেই সেই প্রতিশ্রুতিই এখন রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষের কারণ হয়ে উঠেছে। নতুন সরকারের প্রকাশ করা দীর্ঘ ও জটিল আবেদনপত্র ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল বিভ্রান্তি। এরই জেরে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, “ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি, ভোটের পর শুধুই স্মৃতি।”

নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছিল, ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ভাতা দ্বিগুণ করে সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা দেওয়া হবে। তখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহও করেছিল বিজেপি কর্মীরা। ফর্মও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। সেই ফর্মও আর কাজে আসছে না।

বরং সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পুরনো সুবিধাভোগীদেরও নতুন করে আবেদন করতে হবে এবং কঠোর যাচাইয়ের মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, আয়করদাতা, অনুমোদিত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী এবং যাঁদের নাগরিকত্ব বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। ফলে বহু মহিলার মধ্যেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লেখেন, “ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি, ভোটের পর শুধুই স্মৃতি।” দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও অভিযোগ করেন, ভোটের আগে সহজ প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সাধারণ মহিলাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জটিল ফর্ম পূরণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিজেপি সরকারের দাবি, পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, বর্তমান তালিকায় বহু ভুয়ো, মৃত বা অযোগ্য নাম রয়েছে। তাই প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতেই এই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া প্রয়োজন। একই সুরে রাজ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, করদাতাদের টাকা যাতে অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক তরজার বাইরে গিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে আবেদনপত্রের বিস্তৃত তথ্যচাহিদা। আবেদনকারীর পাশাপাশি পরিবারের সকল সদস্যের আধার, ভোটার কার্ড, প্যান, ব্যাঙ্কের তথ্য, জমি-বাড়ির বিবরণ, গাড়ির তথ্য, আয়, শিশুর টিকাকরণ, স্বাস্থ্যবিমার নথি এবং জিএসটি সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে বলা হয়েছে। এমনকি পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি বা পঞ্চায়েত-পুরসভার প্রতিনিধি ছিলেন কি না,পরিবারের কেউ পেনশনভোগী কিনা তাও উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই দীর্ঘ নথিপত্র ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষের একাংশের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত বহু মহিলা হয়তো প্রকল্পের সুবিধা থেকেই বঞ্চিত হতে পারেন। ফলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বড় ঘোষণা এখন বাস্তবের মাটিতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।