Header AD

তৃণমূলে বিপর্যয়ের মাঝেই বিশ্বাস পরিবারে ভাঙনের সুর! আইনি বিচ্ছেদের পথে স্বরূপ-জুঁই

jui swarup

শুধু রাজনীতির অন্দরে নয়, এবার ব্যক্তিগত জীবনেও ভাঙনের মুখে টালিগঞ্জের বিশ্বাস পরিবার।প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাতৃবধূ তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস জানিয়েছেন, স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি টানতে চলেছেন। যদিও এই ইতি টানার প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকেই পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আলাদা থাকছেন তাঁরা। চলতি বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান জুঁই। স্বরূপ বিশ্বাসও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে খবর।আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে পারে বলেই জুঁইয়ের অনুমান।

দক্ষিণ কলকাতার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস পরিবারের পুত্রবধূ হিসেবে পরিচিত। স্বরূপ ও জুঁইয়ের দুই কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে পরিবারের স্বার্থে এতদিন এই ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আনেননি বলেই দাবি তাঁর।

টলিউডে স্বরূপ বিশ্বাসের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার পর নানা বিতর্ক ও অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রসঙ্গে জুঁই বলেন, তিনি অভিযোগগুলির কথা শুনেছেন ঠিকই, কিন্তু অন্যদের থেকে বেশি কিছু জানেন না। কারণ, স্বরূপের টলিপাড়ার জগতের সঙ্গে তাঁর নিজের দূরত্ব বরাবরই ছিল। কোনও পার্টি, অনুষ্ঠান কিংবা সিনেমার প্রিমিয়ারে তাঁকে খুব একটা দেখা যেত না বলেও জানান তিনি।

জুঁই আরও বলেন, ২০১৯ সালেই দু’জনে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। তবে কোভিড পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালে আলাদা ঠিকানায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৫ সাল থেকে তাঁরা স্থায়ীভাবে পৃথকভাবে বসবাস শুরু করেন।

এদিন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খোলেন জুঁই বিশ্বাস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলাফল নিয়ে আত্মসমালোচনার সুর শোনা যায় তাঁর কথায়। তাঁর দাবি, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সরকার ভালো কাজ করলেও পরবর্তীকালে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ভালো কাজের পাশাপাশি এমন অনেক কিছু ঘটেছে যা তাঁর পছন্দ হয়নি। সেই কারণেই তিনি নিজেকে দলের মধ্যে অনেকটা ‘অড ম্যান আউট’ বলে মনে করতেন।

জুঁইয়ের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, তাঁর বক্তব্য কি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ইঙ্গিত করছে, তা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।