Header AD
Trending

নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে বিতর্ক! মমতার চিঠি, অভিষেক-চন্দ্রিমাকে ধমক প্রসঙ্গে নীরব জ্ঞানেশ

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC Gyanesh Kumar) ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতা-নেত্রী তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের দাবি, তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে ছয়টি চিঠি লিখলেও তার একটিরও উত্তর মেলেনি। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) সঙ্গে তাঁর দুর্ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তরফে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনারকে। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গ উঠলে তা কার্যত এড়িয়ে গেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। উলটে তিনি বললেন, “ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। যে যা খুশি তাই বলতে পারে।”

উল্লেখ্য ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে বাংলায় কেন এসআইআর শুরু করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে শুরু থেকেই সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি নির্বাচন কমিশনারকে একাধিকবার চিঠি লেখেন। কিন্তু কোনও চিঠিরই উত্তর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁর। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা। পরবর্তীতে এসআইআর সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানাতে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে অভিষেকের সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বৈঠক শেষে কমিশনারের আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এরপর সোমবার কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম এবং রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে চন্দ্রিমা অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার বৈঠকে একাই কথা বলছিলেন এবং কিছুক্ষণ পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া নিয়ে কমিশনার আপত্তি তুলেছিলেন। চন্দ্রিমা বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আমি একজন মহিলা, অথচ আমাকে বলা হচ্ছে ‘ডোন্ট শাউট’। এতে বোঝা যায় মহিলাদের প্রতি তাঁর যথেষ্ট শ্রদ্ধা নেই।”

তবে এই সমস্ত অভিযোগ বা সমালোচনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি একই অবস্থান বজায় রেখে জানান, রাজনৈতিক মন্তব্যের জবাব দেওয়া নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে কার্যত নীরব রইলেন জ্ঞানেশ কুমার। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে তাঁর দুর্ব্যবহারের প্রসঙ্গ উঠলে জবাবে তিনি বলেন “ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সকলের বাকস্বাধীনতা রয়েছে। রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জানাতেই পারে। এসব বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা রাজনৈতিক মন্তব্যের জবাব দিই না।”