Header AD
Trending

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার পথে তৃণমূল, শুরু সই সংগ্রহ

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর (CEC Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে সংসদে ইমপিচমেন্ট (Empeachment) প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী সাংসদদের প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সংসদে এই প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে বলে খবর।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংসদের দুই কক্ষের তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সাংসদদের নির্দেশ দেন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে হলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ৪১ (মৌসম বেনজির নূর ইস্তফা দেওয়ার পরে)। ফলে অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদদের সমর্থন জোগাড় করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।

এই ক্ষেত্রে তৃণমূল একটি রাজনৈতিক কৌশলও নিয়েছে। সাধারণভাবে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অন্তর্ভুক্ত দলগুলির সাংসদদের কাছেই প্রথমে সমর্থন চাইবে তারা। যদি সেই সাংসদরা সই করেন, তবে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। আর যদি কেউ সমর্থন না দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দলগুলির বিজেপি-বিরোধী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হবে।তৃণমূল সূত্রে খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনলে সংসদীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সেই কারণেই এই পদক্ষেপের পথে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই প্রেক্ষাপটেই কংগ্রেসের আনা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে প্রথমে সই না করলেও পরে তৃণমূল সমর্থন জানিয়েছে। অনেকের ধারণা, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যেই এই কৌশল নিয়েছে তৃণমূল।

সব মিলিয়ে জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী রাজনীতিতে আরও জোরালো অবস্থান নিতে তৃণমূল যে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে সরব হয়েছে, এই উদ্যোগ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।