সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি (R N Ravi)। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। রাজভবনে (বর্তমানে লোকভবন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়সহ রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। তবে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে।
কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেন সিভি আনন্দ বোস। এরপরই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে বাংলার স্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আর এন রবি এর আগে ২০১৯ সালে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বুধবার রাতেই তিনি কলকাতায় পৌঁছন ।

উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে দায়িত্ব পালনকালে ডিএমকে সরকারের সঙ্গে একাধিক ইস্যুতে তাঁর সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে কয়েকটি বিল নিয়ে রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের মধ্যে টানাপোড়েন চরমে ওঠে। এমনকি তাঁকে রাজ্যপালের পদ থেকে সরানোর দাবিতে ডিএমকে (DMK) নেতৃত্ব রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আবেদন জানিয়েছিল। এই জটিল পরিস্থিতির মাঝেই বাংলার স্থায়ী রাজ্যপালের দাইয়িত্ব নিলেন রবি।
অন্যদিকে, বুধবার রাজভবনের সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে উল্লেখ করে এই রাজ্যের সঙ্গে তাঁর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। এদিকে সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষিতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন রাজ্যপালকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত রাজ্যপালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে একটি ছোট ঘটনারও সাক্ষী থাকেন উপস্থিতরা। কলকাতার মেয়র অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না জানা যাওয়ায় তাঁর জন্য নির্ধারিত আসনের নেমপ্লেট সরিয়ে বিমান বসুকে সামনের সারিতে বসার ব্যবস্থা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শপথগ্রহণের পর নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি নিজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা একে অপরকে নমস্কার জানিয়ে কিছুক্ষণ কথাও বলেন।





