পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়েছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও। বাংলার বিভিন্ন জায়গায় রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ। এরই মধ্যে গ্যাসের অভাবে বন্ধের মুখে রাজ্যের একাধিক মা ক্যান্টিন। আরামবাগে বন্ধ হয়ে গেল দুটি ‘মা ক্যান্টিন’। এই ক্যান্টিনগুলি আরামবাগ পুরসভার উদ্যোগে পরিচালিত হত এবং প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ মানুষ এখানে খাবার খেতেন। অন্যদিকে পিজি হাসপাতালেও মা ক্যান্টিন সঙ্কটের মুখে। বন্ধ হতে বসেছে বারুইপুরের মা ক্যান্টিনও। সমস্যায় বিধানসভার নিজস্ব ক্যান্টিনও।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় আরামবাগের ক্যান্টিন দুটির সামনে নোটিস টাঙিয়ে জানানো হয়েছে যে আপাতত পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রান্নার গ্যাস না পাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে ক্যান্টিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার পরিষেবা চালু করা হবে। তবে হঠাৎ করে ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার বহু মানুষ। জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যান্টিনগুলির একটি আরামবাগ পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পারেরঘাট এলাকায় ভবঘুরে ভবন সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত। অন্যটি রয়েছে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনে। এই দুটি ক্যান্টিনে প্রতিদিন মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে সাধারণ মানুষ খাবার পেতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশেপাশের বহু মানুষও এখানে এসে খাবার খেতেন। ফলে ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। শুধু আরামবাগ নয়, হুগলি জেলার আরও কয়েকটি মা ক্যান্টিনেও একই কারণে পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে।
বন্ধের মুখে এসএসকেএম হাসপাতালের মা ক্যান্টিনও। সেখানে ৫ টাকার বিনিময়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর আত্মীয় খাবার খান। ক্যান্টিন বন্ধ হলে স্বাভাবিক ভাবেই বিপাকে পড়বেন তারা। আবার বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র বারুইপুরে দুটি মা ক্যান্টিন রয়েছে। সাম্প্রতিক গ্যাসের সমস্যার কারণে সেগুলিও বন্ধের মুখে।
পাশাপাশি গ্যাসের অভাবের কারণে রাজ্যের একাধিক স্কুলে মিড ডে মিলের মেনুতে কাটছাঁট করা হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, মিড ডে মিল, আইসিডিএস, হাসপাতালসহ জরুরি পরিষেবা ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবারহ যেন স্বাভাবিক থাকে তা বিশেষ ভাবে নজর রাখতে হবে। কিন্তু তাঁর নির্দেশের পরও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।





