মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে দেশে রান্নার গ্যাসের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। অনেক জায়গায় বুকিং করার পরও সিলিন্ডার মিলছে না বলে দাবি করছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন রাজ্যে গ্যাস ডিলারদের দোকানের সামনে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কিছু রেস্তরাঁও বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর মিলেছে।
এই পরিস্থিতিতে সংসদে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri) জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির কোনও অভাব নেই এবং সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে এবং বুকিংয়ের প্রায় আড়াই দিনের মধ্যেই গ্রাহকদের বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের বক্তব্য চেয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। বুধবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এ বিষয়ে কেন্দ্রের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন। বৃহস্পতিবার সংসদে বিরোধী সাংসদরা থালা-বাসন ও প্রতীকী গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) সাংসদদেরও থালা বাজিয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুরী বলেন, দেশে পেট্রোল, ডিজেল বা কেরোসিনের কোনও ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে এবং তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক। তাঁর কথায়, সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক এবং এলএনজির ক্ষেত্রেও কোনও সমস্যা নেই। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকলেও তার বড় প্রভাব ভারতে পড়েনি বলেই দাবি করেন তিনি। বরং গত পাঁচ দিনে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে কিছু এলাকায় যে সামান্য সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তার জন্য মজুতদারি ও কালোবাজারিকে দায়ী করেছেন তিনি।
মন্ত্রী বক্তব্য রাখার সময় বিরোধী সাংসদরা বারবার ‘এপস্টেইন’ প্রসঙ্গ তুলে স্লোগান দেন। রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-সহ কয়েকজন বিরোধী নেতা এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে হইচইয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।





