Header AD

এলপিজি সঙ্কটে বিপাকে দার্জিলিংয়ের চা শিল্প! ফার্স্ট ফ্লাশ মরশুমে উৎপাদন ও রপ্তানিতে শঙ্কা

বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিপদের মুখে পড়েছে জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত বিশ্ববিখ্যাত দার্জিলিং চা শিল্প। পাহাড়ের চা কারখানাগুলিতে অর্গানিক চায়ের মান বজায় রেখে পাতা শুকানো এবং সেখান থেকে জলীয় বাষ্প অপসারণের কাজে মূলত এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই গ্যাসের সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে চা উৎপাদকদের মধ্যে।

চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং পাহাড়ে মোট ৮৭টি জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৫টি বর্তমানে বন্ধ। চালু থাকা ৭২টি বাগানের মধ্যে প্রায় ৬০টিতে জৈব পদ্ধতিতে চা চাষ হয়। এই সব বাগানের কারখানায় চা প্রক্রিয়াকরণ ও শুকানোর কাজে কয়লা বা কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করা হয় না। কারণ, এই ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করলে উৎপাদিত চায়ের মধ্যে ক্ষতিকর অ্যানথ্রাকুইনোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে কয়লা ব্যবহার করে চা প্রক্রিয়াকরণ করলে চায়ে অ্যানথ্রাকুইনোনের মাত্রা ৪.৩ থেকে ২৩.৯ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে যায়। অ্যানথ্রাকুইনোন একটি সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান। এর পাশাপাশি কয়লা পোড়ানোর ধোঁয়া থেকে অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের বাষ্প চা পাতায় জমা হতে পারে, যা চায়ের গুণমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই কারণে সেই চা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি, চায়ের পরীক্ষায় অ্যানথ্রাকুইনোনের উপস্থিতি ধরা পড়লে বিদেশি বাজার থেকে সেই চা ফেরত পাঠানো হয়। সেই কারণে, অর্গানিক দার্জিলিং চায়ের গুণগত মান বজায় রাখতে চা শুকানোর কাজে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।

জানা গিয়েছে, প্রতি কেজি অর্গানিক দার্জিলিং চা উৎপাদনে প্রায় ৫ কেজি জ্বালানি গ্যাস প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ ১ লক্ষ কেজি চা তৈরি করতে প্রায় ৫০ হাজার কেজি গ্যাস দরকার। ফার্স্ট ফ্লাশ মরশুমে একটি বাগানে উৎপাদন চালু রাখতে গড়ে ২০টি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সেই পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।দার্জিলিং পাহাড়ে প্রতিবছর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ‘ফার্স্ট ফ্লাশ’-এর পাতা তোলার মরশুম, যা প্রায় দু’মাস ধরে চলে। এই সময় উৎপাদিত চা-ই মরশুমের সেরা মানের হিসেবে ধরা হয় এবং এর বড় অংশই জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। এই মরশুমে অন্তত ২০ লক্ষ কেজি চা উৎপাদিত হয়, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ।

চা শিল্পের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক চা কারখানায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সিলিন্ডার পৌঁছায়নি। কবে বাকি গ্যাস মিলবে, সে ব্যাপারেও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না ডিস্ট্রিবিউটররা।এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বহু চা বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। কারণ, ফার্স্ট ফ্লাশ মরশুমে চা উৎপাদন না হলে বাগান চালু রাখা আর্থিকভাবে সম্ভব নয়।