রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছিল ছোট্ট নিরীহ প্রাণ তামান্না। সেই শোক আজও ভোলে তার পরিবার। কিন্তু চোখের জলকে শক্তিতে পরিণত করে লড়াইয়ের ময়দানে নামার মানসিকতা সবার থাকে না—তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন সেই শক্তি দেখিয়েছে। দীর্ঘদিন বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী এই নারী মনে করেন, তাঁর মেয়ের হত্যার ন্যায় বিচার এনে দেবে বাম শিবির।
সেই বিশ্বাসকে সামনে রেখেই এবারের নির্বাচনে কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। নিহত ৯ বছরের শিশু তামান্না খাতুনের মা হিসেবেই এবার রাজনৈতিক ময়দানে পা রাখতে চলেছেন তিনি। তবে তাঁর প্রার্থীপদ ঘিরে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরেই দেখা দিয়েছে তীব্র বিরোধ। প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষুব্ধ বহু বাম কর্মী সমর্থক।
২০২৫ সালের ২৩ জুন, কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন দুপুরে বোমাবাজির ঘটনায় প্রাণ হারায় মোলান্দি গ্রামের তামান্না। ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎক্ষণাৎ কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন, এবং পুলিশের তৎপরতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। খবর, গত ডিসেম্বর মাসে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেন, যদিও সৌভাগ্যবশত প্রাণে বেঁচে যান। পরে তিনি মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।
এরই মধ্যে বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম ঘোষণা করা হলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তাঁকে “শহিদ কন্যার মাতা” হিসেবে উল্লেখ করে প্রার্থীপদ ঘোষণা করেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি নন দলের স্থানীয় স্তরের কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, সাবিনা ইয়াসমিন সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন এবং দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখেন না। এই কারণ দেখিয়ে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মানতে অস্বীকার করেন তারা। প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে কালীগঞ্জে সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। চেয়ার-টেবিল ভেঙে কার্যত অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।





