নন্দীগ্রামের পর এবার শুভেন্দু অধিকারীর নজর ভবানীপুরে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র এই কেন্দ্রে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তবে নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতার প্রচার যেন তেমন গতি পাচ্ছে না—এমনই দাবি শাসকদলের।যেন তেন প্রকারে ভবানীপুরে জিততে নির্বাচন কমিশনকেও কাজে লাগাতে ছাড়ছেনা বিজেপি। ঠিক যেভাবে ভবানীপুরের ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জয়ের ঘুঁটি সাজিয়েছে বিজেপি, সেভাবেই আবার ভোট গণনায় নন্দীগ্রামের মত লোডশেডিং করতে পারে, আশঙ্কা তৃণমূল নেত্রীর। সেই কারণে কর্মীদের সতর্ক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার ভবানীপুরে প্রথম কর্মিসভা থেকেই দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি জয়ের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। তৃণমূলের দাবি, প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং আরও ১৪ হাজার ভোটার অ্যাডজুডিকেশনের আওতায় রয়েছে।
২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকেই প্রায় ৫৮ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় সেই ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।সভা থেকে মমতার স্পষ্ট বার্তা—ভোটারদের পাশে দাঁড়াতে হবে। যেসব বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ট্রাইবুনালে নিয়ে গিয়ে ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি কর্মীদের সবসময় সতর্ক থাকার কথাও বলেন, যাতে কোনও যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
তিনি আরও বলেন, ভবানীপুর এক অর্থে “মিনি ইন্ডিয়া”—এখানে বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন এবং মিলেমিশে উৎসব পালন করেন। সেই ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তাঁর।নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে মমতা জানান, ভোট শেষ হলেই যেন কর্মীরা বাড়ি না ফিরে যান। স্ট্রংরুমে কড়া নজরদারির কথাও বলেন তিনি। এমনকি গণনার সময় নন্দীগ্রামের মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ভবানীপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, আর সেই প্রেক্ষিতে সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও সতর্ক থাকার বার্তাই দিলেন তৃণমূল নেত্রী।





