Header AD

‘পদ্মফুলের থেকে টাকা নিয়ে জোড়াফুলে ভোট করবেন’, পাথরপ্রতিমার সভা থেকে নিদান অভিষেকের

abhishek banerjee

বঙ্গে ভোটের (Election 2026) দামামা বেজে গিয়েছে। ভোট প্রচারে (Election campaign) রাজনৈতিক দল গুলো ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে। মঙ্গলবার পাথরপ্রতিমা থেকে নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। জনসভা থেকে দলীয় কর্মীদের সামনে বড় জয়ের লক্ষ্যও নির্ধারণ করে দিয়ে তিনি বলেন, “৪০ হাজারের বেশি ব্য়বধানে জিততে হবে।” পাশাপাশি কর্মীদের প্রতি তাঁর বার্তা, পদ্মফুল থেকে টাকা দিতে চাইলে সেই টাকা নেবেন। কিন্তু পদ্মফুলের (BJP Party) থেকে টাকা নিয়ে জোড়া ফুলের হয়ে ভোট করবেন। এছাড়া তিনি এলাকার মানুষের উদ্দেশে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিও দেন ।

মঙ্গলবার পাথরপ্রতিমার কলেজ গ্রাউন্ডে জনসভার শুরুতেই অভিষেক বলেন, “আমার জীবনের প্রচলিত প্রথার মতো যেকোনও প্রচার পর্ব দক্ষিণ ২৪ পরগ্না থেকে শুরু করি। এবারও আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করলাম।” সভায় অভিষেক আরও বলেন, “দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা যা আজ ভাবে, গোটা বাংলা কাল ভাবে। আর বাংলা আজ যা ভাবে গোটা ভারত কাল তা ভাবে। এই বাংলার মাটি থেকে দেশে বদলের সূত্রপাত হবে।” এই কথার সূত্র ধরেই তিনি পাথরপ্রতিমায় জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন। গতবার এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন ২২ হাজারের কিছু বেশি ভোটে। সেই হিসেবে এবার প্রায় দ্বিগুণ ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য বেঁধে দিলেন তিনি। উল্লেখ্য পাথরপ্রতিমার তৃণমূল প্রার্থী সমীর জানার হয়ে এদিন প্রচার করেন তিনি।

সভা থেকে বিরোধী বিজেপিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। সভা থেকে তাঁর হুঙ্কার, “বিজেপিকে এবার ৫০-এর নিচে নামাব।” এদিনের সভা থেকে বিজেপির কর্মকাণ্ড ফাঁস করে তিনি বলেন, “আমার কাছে অনেক BLO 2রা ফোন করে জানাচ্ছে বিজেপির তরফে তাদেরকে বুথকর্মী হওয়ার জন্য টাকার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। আমি বলব, এই রকম টাকার প্রস্তাব দিলে নিয়ে নেবেন। ওদের অনেক টাকা। যা টাকা বলবে সেটা বাড়িয়ে নেবেন। পদ্মফুলের থেকে টাকা নিয়ে জোড়া ফুলের হয়ে ভোটটা করবেন।” বিজেপিকে এদিন “কেউটে” বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক ব্যানার্জি। বাংলাকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা। এদের ভোটের সময়ে দেখা যায়, বাকি সময়ে মানুষের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ থাকে না। শুধু মুখে বড় বড় কথা। জেনে রাখুন, পদ্মফুলে দিলে ছাপ, ঘরে ঢুকবে কেউটে শাপ।”

এপ্রিলের শেষেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাঁদের সমস্যার কথা শুনছেন এবং ভবিষ্যতে সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে পাথরপ্রতিমার সভা থেকে অভিষেক তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রকাশিত দিদির ১০ প্রতিজ্ঞার কথা তুলে ধরেন। পাথরপ্রতিমাবাসীর উদ্দেশ্যে পাঁচটি প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, চতুর্থবার তৃণমূল ক্ষমতায় এলে—
-‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প আরও জোরদার করা হবে

  • প্রত্যেকের জন্য পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করা হবে
  • প্রতিটি ব্লক ও টাউনে বাড়ির দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে
  • প্রতিটি বাড়িতে বিনামূল্যে নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ করা হবে
  • সব প্রবীণ নাগরিককে বার্ধক্যভাতা দেওয়া হবে
    এছাড়াও তিনি ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় এলে ৩০ হাজার কোটি টাকার কৃষি বাজেট আনা হবে। এছাড়াও, স্কুল, জেলা গঠন-সহ তৃণমূলের ইস্তেহারে বর্ণিত বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোর কথাও তুলে ধরেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে ২০১১ পর্যন্ত পাথরপ্রতিমায় যা কাজ হয়েছে, ১৫ বছরে তার দশগুণ হয়েছে। গ্রামীণ হাসপাতাল নিয়ে এখানকার মানুষের অভিযোগ রয়েছে, চতুর্থবার সরকার গড়ার পর অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে। পাথরপ্রতিমায় বাস টার্মিনাসের দাবি রয়েছে, একটা সমীক্ষা করে সেটাও সম্ভব হলে করা হবে।”

সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তৃণমূল অতীতে যেমন মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও তেমনই থাকবে।