Header AD

রাজ্যের বাইরে চিকিৎসায় লাগবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি! মন্ত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু সরাষ্ট্র দপ্তরের

home affairs

এবার থেকে রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা করাতে গেলে আগের মতো আর সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। লাগবে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরাষ্ট্র দপ্তর এই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের কোনও মন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অন্য রাজ্যের বাইরে চিকিৎসা করাতে হলে আগে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি ও ‘দ্য কলকাতা গেজেট’-এ প্রকাশিত এই নির্দেশিকা প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল, প্রকৃত অসুস্থতা না থাকলেও অনেক মন্ত্রী অন্য রাজ্যে বার্ষিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার নামে বিপুল অঙ্কের বিল জমা দিয়েছেন। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতেই রাজ্য সরকার নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীরা দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই সরকারি এই চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও এই সুবিধা পাবেন—যেমন অবিবাহিত কন্যা, নির্ভরশীল বাবা-মা এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত নির্ভরশীল ভাই-বোন। চিকিৎসা পরিষেবার পরিধিও বিস্তৃত করা হয়েছে। সরকারি ও সরকার-পোষিত হাসপাতালের পাশাপাশি ২০১৭ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট-এর আওতায় থাকা বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমেও এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে থাকবে চিকিৎসকের পরামর্শ, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, ভ্যাকসিন, অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে দাঁতের চিকিৎসাও। খরচের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে। আর বেসরকারি বা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করালে তার খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বা পরে পরিশোধ করবে। এমনকি চিকিৎসকের চেম্বার বা বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার খরচও এর অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, হাসপাতালে সর্বোচ্চ মানের শয্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ নার্সিং পরিষেবার ব্যবস্থাও এই নীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে এই সব ধরণের পরিষেবা রাজ্যের বাইরে নিতে গেলে সেক্ষেত্রে এবার আগে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন পড়বে।