LPG সিলিন্ডার গ্রাহকদের জন্য ফের নয়া নিয়ম চালু হল। দুটি এলিপিজি সিলিন্ডার (LPG Cylinder) বুক করার সময় ব্যবধান সংক্রান্ত নিয়মে ফের রদবদল করা হল।২৫ দিনের বদলে এবার ডাবল সিলিন্ডার গ্রাহকরা গ্যাস বুকিং করতে পারবেন ৩৫ দিন পরে। তবে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেলেন প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকেরা। ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে শহর, গ্রাম, দুর্গম এলাকায় একই নিয়ম প্রযোজ্য। এছাড়া ৫ এবং ১০ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে গ্রাম এবং শহরে বুকিংয়ের ব্যবধানের সময়সীমা ভিন্ন করা হয়েছে।
গ্যাস সংস্থাগুলির সূত্রে জানা যাচ্ছে, যেসব গ্রাহকের বাড়িতে ডাবল সিলিন্ডার রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বুকিংয়ের ব্যবধান ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩৫ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার বুক করার পর পরবর্তী বুকিং করতে হলে অন্তত ৩৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে যাঁদের একটিমাত্র সিলিন্ডার রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের মতোই ২৫ দিন পর বুকিং করা যাবে। ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য এই নিয়ম গ্রাম ও শহর—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা-র আওতায় থাকা গ্রাহকদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা এখন একটি সিলিন্ডার বুক করার পর পরবর্তী বুকিং করতে পারবেন ৪৫ দিন পরে। আগে এই সময়সীমা ছিল ২৫ দিন, ফলে নতুন নিয়মে তাঁদের অপেক্ষা অনেকটাই বেড়ে গেল। গ্রাম হোক বা শহর—সব জায়গাতেই এই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে।শহরে ৫ কেজির সিলিন্ডার একটি বুক করার পরে ৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে। গ্রাম, দুর্গম এলাকায় সেই ব্যবধান হল ১৬ দিন। শহরে ১০ কেজির সিলিন্ডার একটি বুক করার পরে ১৮ দিন কাটলে দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে। গ্রাম, দুর্গম এলাকায় এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩২ দিন করা হয়েছে।
এই নতুন নিয়মের ফলে শহর হোক বা গ্রাম গ্রাহকদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রান্নার গ্যাসের দাম চলতি মাস থেকেই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় ৬০ টাকা বেড়ে এলপিজি সিলিন্ডার মিলছে ৯৩৯ টাকায়। এরপরও সরবরাহ অপ্রতুল। বুক করা গেলেও সিলিন্ডার হাতে মিলছে দেরিতে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে আরও বেশি।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় চলতি সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণকারী পথ হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে, আর তার আঁচ লাগছে ভারতেও। জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্র সরকার এখনও দেশে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেনি। সম্প্রতি সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, দেশে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি, তেল আমদানির উৎস বাড়িয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিই নাকি আত্মনির্ভরতার পথে এগোনোর সঠিক সময়।





