Header AD

নির্বাচনের আগে ১১টি দপ্তরের ২৩টি সংস্থা থেকে পদত্যাগ মমতার, সঙ্গে জুড়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকাও

Mamata Banerjee

নিয়ম মেনে একাধিক সরকারি কমিটি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, দপ্তর, বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার তিনি ১১টি দপ্তরের ২৩টি সংস্থা থেকে পদত্যাগ করেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর। সমস্ত দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে রাজ্যের হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের তরফে নবান্ন থেকে জারি করা হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই আচমকা পদত্যাগের পরেই রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর এই পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিষয়টি সরকারের প্রতিটি দপ্তরকে জানিয়ে দেন। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি দপ্তরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, ২৫ মার্চ বিকেল ৪টার মধ্যে সকল দপ্তরকে তাদের ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ পাঠাতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক দায়িত্বের ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

 নবান্ন সূত্রে খবর, এটি সম্পূর্ণ একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ভোটের আগে প্রতি বারই এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগপত্রের সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যদের একটি তালিকাও সংযুক্ত করে দেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়টিও উল্লেখ থাকে। পদত্যাগপত্রের সঙ্গে সেটির উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমি সংযুক্ত তালিকায় উল্লিখিত আমার সকল অফিস/পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছি।‘ একইসঙ্গে তিনি আরও লেখেন, ‘সংযুক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানে আমার অফিস/পদগুলি-সহ, এই ধরনের সকল ক্ষেত্রে পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগপত্রের সঙ্গে যে তালিকাটি সংযুক্ত করেছেন, তাতে মোট ১১টি দপ্তরের অধীনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদের উল্লেখ রয়েছে। তালিকায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, অরণ্য, তথ্য ও সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ, আদিবাসী উন্নয়ন, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, উদ্বাস্তু পুনর্গঠন, পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান, বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অন্তর্গত বিভিন্ন সংস্থা ও পদ অন্তর্ভুক্ত। তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলিতে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষমতায় দায়িত্ব পালন করেছেন—কিছু সংস্থায় তিনি চেয়ারপার্সন, কিছুতে মিশন হেড, আবার কিছুতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক বা সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। পদত্যাগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, এসব সংস্থার সমস্ত পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক সংহতি বজায় রাখার পাশাপাশি সংবিধান অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হলে এবং আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট চালু হলে, সরকারি পদ বা সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করে কোনওরকম নির্বাচনী সুবিধা নেওয়া নিষিদ্ধ। সেই স্বার্থের সংঘাত বা ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ যাতে বিরোধীরা হাতিয়ার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই আগাম পদক্ষেপ নেন তিনি‌। তবে প্রশাসনিক মহলের বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই ধরনের পদে থাকা বা ইস্তফা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনত কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি কৌশলগত ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার পদক্ষেপ।