বিজেপির বুথে বসার জন্য লোক নেই! আর তাই তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্টদের মোটা টাকার প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের জগন্নাথপুরে প্রচারে গিয়ে ফের এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি দাবি করেন, “বুথ লেভেল এজেন্টরা অনেকেই আমাকে বলেছেন, বিজেপির দিল্লি অফিস থেকে ফোন আসছে তাঁদের কাছে। বলা হচ্ছে, অনেক তৃণমূল করেছ, আর নয়। বলছে, আমাদের হয়ে বুথে বসবি, ৫০০০ টাকা দেব” এই কথার সূত্র ধরেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর পরামর্শ, “টাকা বিজেপির কাছ থেকে নেবেন আর ভোট করাবেন জোড়াফুলের হয়ে।” পাশাপাশি এদিনের সভা থেকে বিজেপিকে নারী বিদ্বেষী দল বলেও কটাক্ষ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
বাংলায় এবার দুদফায় নির্বাচন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল, এই দুই দফায় ভোট রয়েছে। তার আগে প্রচারে ঝড় তুলেছে তৃণমূল শিবির (Trinamool Congress)। উত্তরে মমতা (Mamata Banerjee) দক্ষিণে অভিষেক দলীয় প্রার্থীদের হয়ে ময়দানে প্রচারে নেমেছেন। এদিন দাসপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী আশিস হুদাইতের সমর্থনে সভা করেন অভিষেক। এই সভা থেকেই বিজেপিকে নিশানা করেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন বিজেপির বুথ লেভেলে কর্মী নেই। তাই তারা তৃণমূলের কর্মীদের টাকার বিনিময়ে বুথে বসার প্রস্তাব দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, “আমার অফিসে বুথ লেভেল এজেন্ট যারা আছেন, তাঁরা সরাসরি যুক্ত। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আমাকে বলেছেন, বিজেপির দিল্লি অফিস থেকে ফোন আসছে তাঁদের কাছে। বলা হচ্ছে, অনেক তৃণমূল করেছ, আর নয়।” এরপর তৃণমূলের কর্মীদের তিনি দলের শক্তি বলে দাবি করেন এবং একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের তিনি পরামর্শ দেন, “যাঁদের কাছে ফোন যাচ্ছে, ফোনটা ধরবেন। বিজেপি থেকে টাকার অফার পেলে দরদাম করবেন। যদি দুহাজার টাকা ওরা দিতে চায়, সেটা দরদাম করে ৫০০০ করবেন। ৫০০০ দিতে চাইলে ১০ হাজার টাকা চাইবেন। আর ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাইবেন। কারণ টাকাটা আপনার। টাকা বিজেপির কাছ থেকে নেবেন আর ভোট করাবেন জোড়াফুলের হয়ে।”
এদিনের সভা থেকে বিজেপিকে নারী বিদ্বেষী দল বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজেপিকে রীতিমতো তুলোধনা করে তিনি বলেন, “গত কয়েকদিন আগেই দাসপুরের বিজেপির এক নেতা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়া মহিলাদের ঘরবন্দি করে রাখার নিদান দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি এখনও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।”
সভা থেকে দাসপুরের উন্নয়নের খতিয়ান পেশ করেন অভিষেক। কালাচাঁদ সেতু সহ একাধিক সেতুর পুর্ণনির্মাণ, রাস্তা নির্মাণ, গোল্ড হাব সহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানান তিনি। কথা বলেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মতো বহুচর্চিত বিষয় নিয়েও।





