Header AD

আমার নামও বিবেচনাধীন! SIR প্রসঙ্গে বিজেপি-কমিশনকে নিশানা করে  বাংলার পর দিল্লি দখলের হুঙ্কার মমতার

Mamata Banerjee

একবারে দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026)। সেই কথা মাথায় রেখে মঙ্গলবার থেকেই প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিন জলপাইগুড়ির পর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে জনসভা করেন তিনি। যেখান থেকে বাংলায় SIR প্রক্রিয়ায় (SIRinBengal) ‘বিবেচনাধীন’ তালিকা নিয়ে বড় অভিযোগ করলেন মমতা। তিনি বলেন, আমার নামও আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন (Adjudication) রাখা হয়েছিল। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে মমতার হুঙ্কার, ‘বুঝুন, এরা পারে না এমন কোনও কাজ নেই। আমার গভর্নমেন্টের সব অফিসারদের বদলি করে দিয়েছে। BJPর অফিসারদের নিয়ে এসছে। কেন জানেন? আমাকে জব্দ করার জন্য। ওরা জানে না, আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর। আগামী দিনে বাংলা দখল করে দিল্লি দখল করব।’’

এদিন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির জনসভা থেকে মমতার বার্তা, ‘‘মা-ভাই-বোনেরা, আপনারা কি জানেন, গতকাল রাতে সবার নাম কেটে দেওয়া হয়েছিল? কারও ছিল না। মানে, বাংলার যত লোক আছে, হঠাৎ হাপিস! ভ্যানিশ হয়ে গেল! তার পর বলছে ‘টেকনিক্যাল ফল্ট’! আমি আমার নামটা খুলে দেখছি, সেটাও অ্যাডজুডিকেশন! বুঝতে পারছেন অবস্থা? এরা করতে পারে না, এমন কোনও কাজ নাই। তাই তৈরি থাকুন।’’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। তার পর দেখা গিয়েছিল, বাংলায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম রয়েছে ‘বিবেচনীধীন’ বা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায়। সেই বিবেচনাধীনদের প্রথম তালিকা সোমবার, ২৩ মার্চ রাতে প্রকাশ করে কমিশন। যা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। অনেকে অভিযোগ করেছেন, চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম ঠিক ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত তালিকায় তাঁদের নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ লেখা রয়েছে। শুধু তাই নয় তৃণমূলের ডায়মণ্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের পাশে লেখা ছিল ‘বিবেচনাধীন। এমনকি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর  নামের পাশে ছিল ‘ডিলিটেড’। এ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়।

  জলপাইগুড়ির ঠাকুরনগরের জাবরাভিটা হাই স্কুল ময়দানের সভা থেকে ফের উত্তরবঙ্গ ভাগ করার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন তৃণমূলনেত্রী৷ তিনি বলেন, ‘‘বিহারে দুটো-চারটে জেলা এবং উত্তরবঙ্গের কয়েকটা জেলা নিয়ে আপনারা আলাদা রাজ্য করবেন? আবার বাংলাকে পদানত করবেন? কিছুতেই হতে দেব না।“ রান্নার গ্যাস নিয়ে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও এদিন কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তৃণমূলনেত্রী৷

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ককেও এদিন  নিশানা করেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি তো ওরা পেয়েছিল। কী করেছে?” এরপর তাঁর বার্তা,” যা করেছি তো আমরা করেছি। একটা কাজও করে না।  যদি এনআরসি না চান, ডিটেনশন না-চান, যদি লক্ষ্মীর ভান্ডার চান… এলাকায় শান্তি রাখতে চান, তা হলে মনে রাখবেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প নেই।’’