Header AD

রামনবমীতে রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয়, স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল

Ramnavami

আগামী মাসে বাংলা জুড়ে ভোটের লড়াই। ইতিমধ্যেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন ECI)। তার আগেই উৎসবের আবহ—আজ, বৃহস্পতিবার রামনবমী (Ramnavami)। সকাল হতেই হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় রাস্তায় নেমেছে শোভাযাত্রা। ভক্তদের ভিড়, ঢাক-ঢোল, আর উৎসবের রঙে মুখর চারপাশ। তবে প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে গোটা রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। রাস্তায় নামানো হয়েছে বিপুল পুলিশবাহিনী, স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে নির্বাচন কমিশনও। সূত্রের খবর, প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট নেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎসবের দিন শান্তিপূর্ণ থাকে এবং আসন্ন নির্বাচন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

রামনবমী ঘিরে আগেভাগেই সতর্ক প্রশাসন। বুধবার Nabanna থেকে রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হওয়া এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, রামনবমীর শোভাযাত্রা ঘিরে কোনওরকম অশান্তি এড়াতে পুলিশকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ নজর রাখা হয়েছে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে। সেই কারণেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে রাখা হয়েছে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, মালদহে মোতায়েন রয়েছে এক কোম্পানি। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় এক কোম্পানি এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে দুই কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইতিমধ্যেই এলাকাগুলিতে টহল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

জেলার পাশাপাশি রামনবমী উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া কলকাতাও। শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় হাজারখানেক পুলিশ। লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবারের রামনবমীতে কলকাতায় প্রায় ৬০টি শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা। তার মধ্যে পাঁচটি বড় মিছিল শুরু হবে এন্টালি, পিকনিক গার্ডেন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, হেস্টিংস এবং কাশীপুর থেকে। প্রতিটি মিছিলে থাকছে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশবাহিনী, যাতে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। শুধু তাই নয়, ডিউটিতে থাকা পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ‘প্রোটেকটিভ গিয়ার’। এ বিষয়ে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা—কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বা হামলার চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইট, বোতল বা অন্য কোনও বস্তু ছুঁড়ে হামলার চেষ্টা হলেই দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে পুলিশ, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।

রামনবমীর প্রতিটি শোভাযাত্রার উপর আকাশপথে কড়া নজর রাখবে ড্রোন। মিছিলের আগে ও পরে থাকবে পুলিশের বিশেষ টিম, যাতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো রুট সুরক্ষিত থাকে। রাস্তায় থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ গাড়ি, পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও টহল দেবে পুলিশের মোবাইল ভ্যান। বিশেষ করে বড় মিছিলগুলির রুটে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। সেই ফুটেজ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করবে পুলিশ কন্ট্রোল রুম, যাতে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি চোখ না এড়ায়। এছাড়াও, ডিউটিতে থাকা পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের পোশাকে লাগানো থাকবে বডি ক্যামেরা। ফলে ঘটনাস্থলের প্রতিটি মুহূর্ত রেকর্ড থাকবে, যা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে।