Header AD

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, চার পর্যবেক্ষককে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ TMC-র

TMC protest

বাংলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনের (ECI) পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হল TMC। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ও সাংসদ সায়নী ঘোষ  (Sayani Ghosh) এই অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে আনেন।

তৃণমূলের দাবি, বনগাঁ দক্ষিণ, গাজোল, মধ্যমগ্রাম ও বালিগঞ্জ—এই চার কেন্দ্রে নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের অতীত কার্যকলাপ ও রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের নামও প্রকাশ করা হয়—অজয় কাটেসরিয়া, ধীরজ কুমার, অরিন্দম ডাকুয়া এবং গণ্ডম চন্দ্রুডু।

অভিযোগ অনুযায়ী, অজয় কাটেসরিয়ার বিরুদ্ধে সাতনায় কালেক্টর থাকাকালীন সরকারি জমি বেআইনিভাবে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ধীরজ কুমারের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রে স্বাস্থ্য কমিশনার থাকাকালীন একটি বড় অঙ্কের অ্যাম্বুল্যান্স টেন্ডার কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অরিন্দম ডাকুয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের দাবি, তিনি ওড়িশার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন, যা তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে গণ্ডম চন্দ্রুডুর বিরুদ্ধে অন্ধ্রপ্রদেশে দায়িত্বে থাকাকালীন যৌতুক সংক্রান্ত মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগেও মালদহে নিযুক্ত এক পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি যোগ রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের বাংলায় পাঠাচ্ছে এবং এর পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রভাব রয়েছে। সায়নী ঘোষ অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা কাজে লাগিয়ে সুবিধা না পেয়ে এখন নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এছাড়া, রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে হঠাৎ করে একাধিক উচ্চপদস্থ আমলাকে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল। তাদের দাবি, এই সব পদক্ষেপ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি করছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।