Ramnavami উপলক্ষে নিউটাউনে আয়োজিত শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, মিছিলে অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকায় পুলিশ শোভাযাত্রায় বাধা দেয়। এই নিয়ে আয়োজক ও পুলিশের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে দমদম রামমন্দির পর্যন্ত পৌঁছায়।
জানা যায়, নিউটাউন রামমন্দির থেকে দমদম রামমন্দির পর্যন্ত একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন আয়োজক ও বিজেপি সমর্থকরা। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া। আয়োজকদের দাবি, প্রথা অনুযায়ী পুজোর জন্য একটি অস্ত্র মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে পুলিশ তা দেখতে পেয়ে মিছিলে অস্ত্র বহনের উপর আপত্তি জানায়। এর জেরেই উত্তেজনা ছড়ায়।
পীযূষ কানোরিয়া জানান, তাঁদের মিছিলে কখনও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি এবং এদিনও সেই উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর অভিযোগ, এক পুলিশ আধিকারিক অযথা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। যদিও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শোভাযাত্রা নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়।
এদিকে, রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও রামনবমী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। আসানসোলের রানিগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন BJP প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তিনি বলেন, প্রতি বছরই তিনি রামনবমীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রামনবমী উদযাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। যাদবপুর ক্যাম্পাসে পুজো চলাকালীন দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং উপাচার্য হস্তক্ষেপ করেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও (Calcutta University) অনুমতি না মেলায় ক্যাম্পাসের বাইরে পুজো করতে হয় এবিভিপি সদস্যদের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সরস্বতী পুজো ছাড়া অন্য কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি নেই। এবিভিপি-র দাবি, আগামীতে তারা ক্যাম্পাসের ভেতরে পুজো করার চেষ্টা করবে।
সব মিলিয়ে, রামনবমী উদযাপন ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের ছবি সামনে এসেছে, যদিও বড় কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি।





