Header AD

‘যারা লাইনে দাঁড় করিয়েছে, তাদের বেলাইন করব’, দুবরাজপুরের সভা থেকে হুঙ্কার মমতার

mamata dubrajpur

“নোটবন্দির লাইন, আধার কার্ডের লাইন, SIR এর লাইন, আর এখন গ্যাসের জন্য লাইন। মানুষ আর কত লাইন দেবে? আপনারা আর লাইন দেবেন নাকি বিজেপিকে বেলাইন করে দেবেন? যারা আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে, আমরা তাদের বেলাইন করিয়ে দেব।” বীরভূমের দুবরাজপুরের সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে হুঙ্কার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। ভোটের প্রচারে গিয়ে বাঙালি অস্মিতাকে হাতিয়ার করে তিনি গর্জে উঠলেন, “অমর্ত্য সেন (Amartya Sen), রবীন্দ্রনাথকে এত অপমান করেছে এরা (বিজেপি)! অনেক অপমান করেছে। ওদের আর একটাও ভোট নয়। এবার ভোটটা দিন তৃণমূলের প্রার্থীদের।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে পাণ্ডবেশ্বরের সভা শেষ করে বীরভূমের খয়রাশোলে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে জেলায় দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর হয়ে দুবরাজপুরে ভোট প্রচার করেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি বলেন, “বীরভূম আন্তর্জাতিক মাটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) কর্মভূমি, শান্তিনিকেতন তার আন্তর্জাতিক দেবালয়। শিক্ষা ও মানবতার আশ্রয়।” এই কথার সূত্র ধরেই বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আমরা সব মণীষীদের সম্মান করি। আজ বিজেপি সবাইকে চোর বলছে নগ্ন ভাষায়। কোথায় ছিলে এতদিন? সব বেচে দিয়েছো। যারা দেশ বেচে দিয়েছে তারা আজ বড় বড় কথা বলছে। ” এরপরই বীরভূমের মনীষীদের স্মরণ করে বিজেপি একটিও ভোট না দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

নির্বাচনী জনসভা থেকে SIR-এর বিরোধিতায় কেন্দ্র ও কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “একের পর এক নাম বাদ দিচ্ছে। আমার বুকের পাটা আছে আমি তাই লড়াই করেছি। আমি রাজপথ থেকে আদালত লড়াই করেছি। সাহস থাকলে নামের তালিকা ঝোলাও।” পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর সতর্কবার্তা, “এরপর এনআরসি করবে, তারপর ডিলিমিটেশন, তারপর সেনসাস করে এখনও যাদের নাম ভোটার তালিকায় আছে, তা থেকে অর্ধেক নাম কেটে দেবে। এটাই বিজেপির ধান্দা। তাই বলছি, এবারের ভোটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন ভ্যানিশ কুমারকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি উকুন বাছছে। বেছে বেছে দেখছে, কে ওদের প্রিয় পাত্র। আমি বলি, কেউ তোমাদের প্রিয় পাত্র নয়। কেউ তোমাদের পছন্দ করে না।”

গ্যাসের দাম নিয়েও দুবরাজপুরের সভা থেকে ফের সরব হন মমতা। কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তোপ দাগেন, “গ্যাস বেলুন এখন গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। দু’দিন পরে গ্যাস পাবেন কি না জানি না! আবার গরুর গাড়ি। আবার উনুন! কাল বলেছিল ৩৫ দিন লাগবে। চিৎকার করেছিলাম। আজ বলে ২৫ দিন। সব ঝুট। গ্যাসের দাম বেড়েছে। গ্যাস বেলুনের দয়ায় আজ গ্যাসের দাম ১১০০ টাকা। ৭০০ টাকা বাড়িয়েছে। রেলের টিকিট যেমন রোজ বাড়ায়। বড় গ্যাস ২,১০০। আজ বলছে ২৫ দিন (সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা)। কী দিয়ে রান্না করবে? আমার মাথা খাবে, না কি বিজেপির মাথা। তার পরে বলছে ওরা যে রাজ্যে আছে মাছ, মাংস খাওয়া যাবে না। বাংলা ভাষায় কথা বলা যাবে না। বললেই আপনি বাংলাদেশি। ধরে ধরে মারবে, অত্যাচার করবে। নাম কাটবে। কোনও পার্টি লড়াই করেনি। আমার বুকের পাটা আছে তাই, লড়াই করেছি।”

প্রসঙ্গত এদিনের জনসভায় তৃণমূল নেত্রীর পাশে দেখা যায় অনুব্রত মণ্ডলকে। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচার ঘিরে বীরভূমের জেলা নেতৃত্বের ঐক্যের ছবিটা চোখে পড়ল। একইমঞ্চে দেখা গেল জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সব সদস্যকে। ছিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ও।